আজকাল অনেকেই রাত জেগে কাজ করা, টিভি দেখা বা বই পড়ার অভ্যাসের কারণে সকালে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন। এর ফলে অফিসের বা সংসারের তাড়াহুড়োয় অনেকেই সকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার, অর্থাৎ ব্রেকফাস্ট বাদ দেন। বেশিরভাগই এক কাপ চা বা কফি দিয়েই দিন শুরু করেন, এমনকি অনেক সময় সেটুকুরও সুযোগ হয় না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়ার বিপদ
আপনার কি জানা আছে যে নিয়মিত ব্রেকফাস্ট না করার ফলে আপনার ধমনীগুলি ক্রমশ শক্ত হতে শুরু করে? এর ফলে হৃদরোগের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। পূর্বেও বহু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে সকালের জলখাবার না খেলে স্থূলতা (ওবেসিটি), ডায়াবেটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার ডা. প্রকাশ দিদওয়ানিয়া এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “যাঁদের ওজন বেশি, তাঁরা প্রায়শই ওজন কমানোর জন্য ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর ফলে কাজের কাজ তো কিছুই হয় না, উল্টো মেটাবলিক অ্যাবনরম্যালিটি বেড়ে যায়।” অর্থাৎ, শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে, যা স্বাস্থ্যের জন্য আরও ক্ষতিকর।
পুষ্টিকর প্রাতরাশের গুরুত্ব
বিশিষ্ট ডায়েটিশিয়ান মিতা শুক্লাও জোর দিয়ে বলছেন যে, দৈনন্দিন কাজের চাপ যতই থাকুক না কেন, পেট ভরে ব্রেকফাস্ট খেয়েই দিন শুরু করা উচিত। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “পেট ভরা থাকলে আপনি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাবেন। খিদেয় পেট চুঁইচুঁই না করলে বারে বারে মুখ চালানোর ইচ্ছেও হবে না, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।”
তিনি আরও পরামর্শ দেন, “সম্ভব হলে ঘুম থেকে ওঠার আধ ঘণ্টা পর থেকেই অল্প অল্প করে কিছু না কিছু খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন, তাতে শরীর বেশিদিন ভালো থাকবে। নিয়ম মেনে পুষ্টিকর প্রাতরাশ খেলে ওজনও কমতে বাধ্য।”
সুতরাং, আপনার স্বাস্থ্যের ভালোর জন্য, আজই আপনার সকালের অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন। ব্রেকফাস্টকে আপনার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে গণ্য করুন এবং পুষ্টিকর প্রাতরাশ দিয়ে আপনার দিন শুরু করুন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।





