হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহারে ক্যানসার ও বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি, সতর্ক করলো বিশেষজ্ঞরা

আয়নার সামনে নিজেকে আরও একটু আকর্ষণীয় দেখাতে কে না ভালোবাসে! বিশেষ করে চুল লম্বা ও ঘন দেখাতে এখন ‘হেয়ার এক্সটেনশন’ অনেকের কাছেই হট ফ্যাশন। কিন্তু এই বাহারি সাজের আড়ালেই ওত পেতে বসে আছে ক্যানসারের মতো মারণ ব্যাধি। ‘আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি জার্নাল’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা রিপোর্ট এখন ঘুম উড়িয়েছে ফ্যাশন প্রেমীদের।

৯০০ রাসায়নিকের বিষাক্ত ককটেল!

গবেষকরা প্রায় ৪৩ ধরনের এক্সটেনশন প্রোডাক্ট পরীক্ষা করে শিউরে ওঠার মতো তথ্য পেয়েছেন। এই পণ্যগুলোতে প্রায় ৯০০ রকমের রাসায়নিক চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে থাকা মারাত্মক কিছু উপাদান হলো:

  • বেঞ্জিন: যা সরাসরি রক্তের ক্যানসার বা লিউকেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

  • অর্গানোটিন: সাধারণত শিল্পকারখানার রঙে ব্যবহৃত হয়, যা মানুষের শরীরে ঢুকলে ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে।

  • থ্যালেট: প্লাস্টিকজাত পণ্যের এই উপাদানটি শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং প্রজনন ক্ষমতা বা বন্ধ্যাত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

  • টেট্রাক্লোরোইথিলিন: এটি শ্বাসনালির ক্ষতি করে এবং ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

চুলের স্থায়ী ক্ষতি

কেবল ক্যানসার নয়, হেয়ার এক্সটেনশন আপনার প্রাকৃতিক চুলেরও বারোটা বাজিয়ে দেয়।

  • চুলের গোড়া দুর্বল: নকল চুলের ভার সইতে না পেরে আসল চুলের গোড়া আলগা হয়ে যায়।

  • মেলানিন নষ্ট: রাসায়নিকের প্রভাবে চুলের স্বাভাবিক রঙ বা মেলানিন নষ্ট হতে শুরু করে।

  • রক্ত সঞ্চালনে বাধা: মাথার ত্বকে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি হওয়ায় রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়, ফলে নতুন চুল গজানো বন্ধ হতে পারে।

বিকল্প কী?

গবেষকদের মতে, কৃত্রিম রাসায়নিকের ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রোটিন সমৃদ্ধ ডায়েট, নিয়মিত তেল মালিশ এবং ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক ব্যবহারে চুল প্রাকৃতিকভাবেই ঘন ও উজ্জ্বল থাকে। মনে রাখবেন, সাময়িক ফ্যাশনের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য অনেক বেশি দামী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy