বর্তমানে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন নিয়ে আমরা যতটা চিন্তিত থাকি, নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসারকে ততটাই অবহেলা করি। চিকিৎসকদের মতে, রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া সবসময় নিরাপদ নয়। সাধারণত সিস্টোলিক রক্তচাপ ৯০ মিমি পারদ এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৬০ মিমি পারদের নিচে থাকলে তাকে ‘লো ব্লাড প্রেসার’ বা হাইপোটেনশন বলা হয়।
কখন এটি ভয়ের কারণ?
লো ব্লাড প্রেসার তখনই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় যখন শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে (যেমন মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড এবং কিডনি) পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। যদি প্রেসার কমার সাথে সাথে প্রচণ্ড মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা, বমি ভাব কিংবা জ্ঞান হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে বুঝতে হবে শরীর বড় কোনো সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে হঠাত্ রক্তচাপ কমে গেলে তা স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
মারাত্মক লক্ষণসমূহ:
অতিরিক্ত অবসাদ, মনোযোগের অভাব, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা এবং শ্বাসকষ্ট হওয়া নিম্ন রক্তচাপের গুরুতর লক্ষণ। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে এটি ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া যদি হঠাৎ রক্তচাপ কমে যায়, তবে তা ইন্টারনাল ব্লিডিং বা গুরুতর ইনফেকশনের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই লো প্রেসারকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। প্রচুর জল পান করুন, খাবারে সামান্য লবণের পরিমাণ বাড়ান এবং সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা রুখতে।





