ঘুরতে যাওয়ার সময় বা ভ্রমণ করতে যাওয়ার সময় দীর্ঘক্ষণ ট্রেনে বা বাসে যাতায়াতের ধকলে অনেকেই অসুস্থ বোধ করেন। শুরু হয় বমি বমি ভাব। মাথা ব্যথা বা মাইগ্রেনের কারণে কিংবা হজমের সমস্যার কারণেও বমি বমি ভাব বা শরীরে অস্বস্তি হয়ে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বমিও করে ফেলেন অনেকে। তবে রান্নাঘরে মজুত থাকা সাধারণ কয়েকটি জিনিসের সাহায্যে এই বমি বমি ভাব সহজেই কাটানো সম্ভব।
আসুন জেনে নেওয়া যাক কী করবেন…
১. লবঙ্গ
এক চামচ লবঙ্গের গুঁড়া দিয়ে এক কাপ পানিতে পাঁচ মিনিট সিদ্ধ করুন। ঠান্ডা হয়ে গেলে আস্তে আস্তে এটি খেয়ে দেখুন। এর স্বাদ যদি কটু লাগে তাহলে এর সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া এক থেকে দু’টি লবঙ্গ চিবিয়ে খেয়ে দেখতে পারেন। এটি সঙ্গে সঙ্গে বমি বমি ভাব দূর করে দেবে। লবঙ্গ হজমে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়।
২. লেবু
বমি বমি ভাব কাটাতে খুব সহজ এবং সস্তা একটি উপায় হল লেবু। এক টুকরা লেবু মুখে নিয়ে কিছুক্ষণ চিবিয়ে খান। এছাড়াও এক গ্লাস পানিতে এক টুকরা লেবুর রস, এক চিমটে লবণ মিশিয়ে খেয়ে নিন। এটি দ্রুত বমি বমি ভাব দূর করে দেবে। এক টুকরা লেবু নাকের কাছে নিয়ে কিছুক্ষণ শুঁকে দেখুন, এটিও শারীরিক অস্বস্তি অনেকটাই কমিয়ে দেবে। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড বমি বমি ভাব কমাতে কার্যকর।
৩. জিরা
এক চামচ জিরা এমন একটি উপাদান, যা আপনার বমি বমি ভাব মুহূর্তে দূর করে দেবে। এক চামচ জিরা গুঁড়া করে খেয়ে নিন। মুহূর্তের মধ্যে বমি বমি ভাব দূর হয়ে যাবে। এক চিমটে জিরাও চিবিয়ে খেয়ে দেখতে পারেন। উপকার পাবেন। জিরার সুগন্ধ এবং হজম সহায়ক গুণাবলী এই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।
৪. আদা
দ্রুত বমি বমি ভাব দূর করতে আদা খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। এক টুকরা আদা চায়ের সঙ্গে খান, এটি দ্রুত বমি বমি ভাব দূর করে দেবে। আদা হজমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এক চামচ আদার রস, এক চামচ লেবুর রস এবং সামান্য বেকিং সোডা মিশিয়ে খেয়ে দেখুন। এটিও বমি বমি ভাব দূর করতে সাহায্য করবে। আদা প্রদাহরোধী এবং হজমশক্তি বৃদ্ধিকারী হিসাবে পরিচিত।
ভ্রমণের সময় সঙ্গে রাখুন
মোশন সিকনেসের সমস্যা থাকলে সব সময় সঙ্গে পাতিলেবু বা লবঙ্গ রাখুন। রাস্তায় বমি বমি লাগলে সঙ্গে সঙ্গে মুখে লেবু বা লবঙ্গ দিয়ে দিন। এটি দ্রুত বমি বমি ভাব মুহূর্তে দূর করে দেবে এবং আপনাকে আরাম দেবে।
এই সহজলভ্য ঘরোয়া উপাদানগুলো আপনাকে ভ্রমণের সময় বা অন্য যেকোনো কারণে সৃষ্ট বমি বমি ভাব থেকে মুক্তি দিতে পারে। তবে সমস্যা গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।





