বেশি হাঁটলেই কি ওজন দ্রুত কমে? বিশেষজ্ঞরা শোনালেন উল্টো কথা, হিতে বিপরীত হচ্ছে না তো!

সুস্থ থাকার সবচেয়ে সহজ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন উপায় হলো প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা। জিম বা ভারী ব্যায়ামের সময় যাঁদের নেই, তাঁদের জন্য চিকিৎসকদের প্রথম পরামর্শই থাকে—‘হাঁটুন’। কিন্তু প্রবাদ আছে, ‘অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ’, আর স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ‘অতি হাঁটা’ বিপদের কারণ। অনেকেই মনে করেন, যত বেশি মাইল পথ পেরোবেন, শরীর তত দ্রুত ফিট হবে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, শরীরের সক্ষমতার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত হাঁটা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে।

কতটা হাঁটা আপনার জন্য ‘অতিরিক্ত’? অতিরিক্ত হাঁটার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার বয়স, ওজন এবং শারীরিক সক্ষমতার ওপর। কারো জন্য ২০ মিনিট হাঁটাই যথেষ্ট হতে পারে, আবার কেউ এক ঘণ্টাতেও ক্লান্ত হন না। তবে শরীর যখন বিদ্রোহ শুরু করে, তখনই বুঝতে হবে আপনি সীমার বাইরে চলে যাচ্ছেন।

অতিরিক্ত হাঁটার ৫টি ভয়ংকর সংকেত:

১. পুরোনো ব্যথার প্রত্যাবর্তন: আপনি যদি দীর্ঘক্ষণ হাঁটেন, তবে হাঁটু, গোড়ালি বা কোমরের পুরোনো ব্যথা নতুন করে ফিরে আসতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আর্থ্রাইটিস আছে, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত হাঁটা জয়েন্টের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

২. পেশিতে টান ও পা ফোলা: দীর্ঘক্ষণ শক্ত বা অসমান রাস্তায় হাঁটার ফলে পায়ের পাতায় বা পেশিতে প্রচণ্ড টান ধরতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত চাপে পা ফুলেও যেতে পারে।

৩. চরম ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট: হাঁটা মনকে সতেজ করার কথা। কিন্তু হাঁটার সময় যদি মাথা ঘোরে, বুক ধড়ফড় করে বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি গ্রাস করে, তবে বুঝতে হবে আপনার শরীর আর নিতে পারছে না।

৪. পায়ের পাতায় ফোসকা: দীর্ঘক্ষণ এবং ভুল মাপের জুতো পরে হাঁটলে পায়ে ফোসকা পড়া খুবই সাধারণ সমস্যা। এটি আপনার হাঁটার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

৫. মানসিক অবসাদ: অবাক করার মতো হলেও সত্যি যে, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে মন ভালো হওয়ার বদলে বিরক্তি, মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা অবসাদ দানা বাঁধতে পারে।

তাহলে প্রতিদিন কতটা হাঁটা আদর্শ? আমরা প্রায়ই শুনি দিনে ১০ হাজার পা হাঁটার কথা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরুতেই এই লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়া জরুরি নয়। যাঁরা নতুন শুরু করছেন, তাঁদের জন্য দিনে ৬ থেকে ৮ হাজার পা হাঁটাই যথেষ্ট। শরীর অভ্যস্ত হলে ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়ানো যেতে পারে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো নিজের শরীরের ভাষা বোঝা। হাঁটার পর যদি আপনি সতেজ অনুভব করেন, তবে আপনার পরিশ্রম সার্থক। কিন্তু যদি শরীর ভেঙে আসে বা যন্ত্রণায় কাতরাতে হয়, তবে আজই হাঁটার পরিমাণ কমিয়ে আনুন। সুস্থ থাকতে শরীরচর্চা করুন, কিন্তু শরীরকে ‘শাস্তি’ দেবেন না। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy