সুস্থ থাকতে আমরা কম-বেশি সব খাবার নিয়েই সচেতন, তবে ডিমের কুসুম নিয়ে আমাদের ভয়ের শেষ নেই। উচ্চ কোলেস্টেরলে ভুগছেন এমন অনেকেই হার্টের ভয়ে ডিমের কুসুম পুরোপুরি এড়িয়ে চলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এটি কি আদৌ প্রয়োজন?
পুষ্টিবিদদের মতে, একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত কোলেস্টেরল গ্রহণ করতে পারেন। গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে যে, শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধির জন্য কেবল ডায়েটারি কোলেস্টেরল দায়ী নয়, বরং স্যাচুরেটেড ফ্যাট এর পেছনে মূল ভূমিকা রাখে। তাই ডিমের কুসুমের চেয়ে ক্ষতিকর চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই বেশি জরুরি।
ডিমকে কেবল কোলেস্টেরলের উৎস হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি ভিটামিন এ, বি২, ফোলেট ও সেলেনিয়ামের একটি ‘পাওয়ারহাউস’। কুসুম বাদ দিলে শরীর এই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানগুলো থেকে বঞ্চিত হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে ৪টি ডিমের সাদা অংশ এবং ২টি কুসুম অনায়াসে খেতে পারেন। কোলেস্টেরল রোগীদের ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ ১টি কুসুম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরিশেষে, সুষম ডায়েট এবং নিয়মিত শরীরচর্চাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি। তাই ডিমের কুসুম পুরোপুরি বাদ না দিয়ে বরং প্রক্রিয়াজাত খাবার ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমিয়ে আনা বেশি কার্যকর। মনে রাখবেন, সঠিক পরিমাণে ডিম আপনার হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি নয়, বরং উপকারী হতে পারে।





