ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত ফোন ছাড়া আমাদের এক মুহূর্ত চলে না। এমনকি শৌচাগারে যাওয়ার সময়ও ফোনটি সঙ্গে নেওয়া অনেকের নেশায় পরিণত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করতে করতে বা গেম খেলতে খেলতে কমোডে কতক্ষণ পার হয়ে যায়, তা আমরা অনেকেই টের পাই না। কিন্তু আপনার এই ছোট্ট একটি অভ্যাস ডেকে আনতে পারে অপূরণীয় ক্ষতি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় চিকিৎসকরা যে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন, তা শুনলে আপনার চক্ষুচড়কগাছ হবে!
কেন আজই এই অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত? জেনে নিন বিশেষজ্ঞের মতামত:
১. পাইলস বা অর্শ্বরোগের বড় ঝুঁকি
চিকিৎসকদের মতে, টয়লেটে বসে ফোন ব্যবহার করলে আমরা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সময় সেখানে বসে থাকি। বেশিক্ষণ বসে থাকার ফলে মলাশয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এই দীর্ঘস্থায়ী চাপের কারণে মলদ্বারের শিরা ফুলে যায়, যা থেকে রক্তপাত ও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক পাইলস বা ফিশারের সমস্যা তৈরি হয়।
২. স্মার্টফোন এখন জীবাণুর কারখানা
টয়লেটের পরিবেশ এমনিতেই বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসে পূর্ণ থাকে। বিশেষ করে ই-কোলাই (E. coli), সালমোনেলা এবং শিগেলা-র মতো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াগুলো টয়লেটের বাতাসে ভেসে বেড়ায়। আপনি যখন সেখানে ফোন ব্যবহার করেন, সেই অদৃশ্য জীবাণুগুলো ফোনের স্ক্রিন ও কভারে আস্তানা গাড়ে। পরে আপনি হাত ধুয়ে নিলেও ফোনটি পরিষ্কার করেন না, ফলে খাবার খাওয়ার সময় সেই জীবাণু সরাসরি আপনার পেটে চলে যায়।
৩. পেটের রোগ ও সংক্রমণের ভয়
ফোনের গায়ে লেগে থাকা এই জীবাণুগুলো থেকে টাইফয়েড, ডায়রিয়া ও পেটের নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ত্বকের অ্যালার্জি এবং মূত্রনালীর সংক্রমণের (UTI) পেছনেও এই অভ্যাসটিকে দায়ী করছেন গবেষকরা।
৪. মানসিক অবসাদ ও সময় অপচয়
টয়লেট হলো শরীরের বিষাক্ত পদার্থ ত্যাগের স্থান। সেই সময়টুকুতেও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম না দিয়ে তথ্যের ভিড়ে ডুবিয়ে রাখলে মানসিক চাপ (Stress) বাড়ে। এতে সৃজনশীলতা হ্রাস পায় এবং অজান্তেই আপনার দিনের মূল্যবান অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়।





