হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে চান? মেনে চলুন এই ৩টি জরুরি নিয়ম!

হৃদরোগের ভয় এখন কমবেশি প্রায় সকলকেই তাড়া করে বেড়াচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ব্যস্ত জীবনযাত্রা, শরীরচর্চায় ফাঁকি— নানা কারণেই হৃদরোগের সম্ভাবনা যখন-তখন ধেয়ে আসতে পারে। আমাদের নানা ভুল সিদ্ধান্ত ও অজ্ঞতাই এই অসুখের মূল কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ সাবধানতা মেনে চললে সহজেই এই অসুখ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। আমাদের দেশে প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ হাইপারটেনশনের শিকার, এবং ডায়াবেটিসও এই অসুখের অন্যতম কারণ। এ সব নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ওষুধের পাশাপাশি সাবধানতাও অবলম্বন করা জরুরি। এছাড়াও মেনে চলতে হবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। দেখে নিন সে সব কী কী:

১. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করুন:
হৃদরোগ ঠেকাতে সবার আগে নজর রাখতে হবে কোলেস্টেরলের দিকে। অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে শরীরে বাসা বাঁধে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল। প্রতিদিনের খাবার থেকেও সামান্য পরিমাণ কোলেস্টেরল শরীর পায়, এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরলের যতটা প্রয়োজন, ততটা স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়ে যায়। তাই অনিয়মের হাত ধরে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হৃদরোগের অন্যতম কারণ হিসেবে এই অতিরিক্ত কোলেস্টেরলই দায়ী। এটি রক্তনালীতে চর্বি জমিয়ে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, যা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন:
উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাড প্রেশার) বাড়লে নির্দিষ্ট কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। কখনও মাথা ব্যথা, হঠাৎ মাথা টলে যাওয়া, দুর্বল লাগা, সামান্য পরিশ্রমে শ্বাসের কষ্ট ও বুক ধড়ফড় করার মতো লক্ষণ দেখা যায়, আবার তা নিজে থেকেই ঠিকও হয়ে যায়। বেশিরভাগ মানুষই এই ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না, ফলে অসুখটা চট করে ধরা পড়ে না। কিন্তু লাগাতার এই ভাবে অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ নিয়ে জীবনযাপন করলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ একে একে বিকল হতে শুরু করে। আমাদের দেশে হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণই হলো অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ। আচমকা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ অর্থাৎ স্ট্রোকের জন্যও দায়ী ব্লাড প্রেশার। এছাড়াও, লাগাতার হাই ব্লাড প্রেশারের কারণে কিডনি বিকল ও চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৩. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করুন:
ডায়াবেটিসের রোগীদের বরাবরই হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় ধরা পড়েছে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের, যাদের ব্লাড সুগার অসম্ভব পরিমাণে ওঠানামা করে, তাদের হৃদরোগের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। রক্তে শর্করার মাত্রার এই অস্বাভাবিক ওঠানামা যাদের আছে, তারা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই খাদের কিনারায় থাকেন। তাই তাদের সচেতন হওয়ার প্রয়োজন অনেক বেশি। আর যাদের ব্লাড সুগার অন্তত ২-৩ মাস ধরে মোটামুটি একই রকম থাকে, তারা এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।

এই তিনটি বিষয়—কোলেস্টেরল, রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস—নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে আপনি হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারবেন। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।