সাবধান পুরুষেরা! বুকে এই পরিবর্তন দেখলেই সতর্ক হন, অবহেলা ডেকে আনছে চরম বিপদ

পুরুষের স্তন ক্যানসার—শুনলে অনেকেই অবাক হন, কেউ বা আবার হেসেই উড়িয়ে দেন। কিন্তু পরিসংখ্যান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের রূঢ় বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। আমরা সাধারণত মনে করি স্তন ক্যানসার শুধুমাত্র মহিলাদের রোগ। এই সামাজিক ট্যাবুই আজ পুরুষদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পরেও শুধুমাত্র সংকোচ আর অজ্ঞতার কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করছেন রোগীরা, যার ফলে শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ছে এই মারণ রোগ।

কেন শনাক্ত হতে দেরি হচ্ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের মধ্যে স্তন ক্যানসার শনাক্ত হতে দেরি হওয়ার প্রধান কারণ হলো সচেতনতার অভাব। অনেক পুরুষই জানেন না যে তাদেরও স্তন টিস্যু রয়েছে এবং সেখানে টিউমার হতে পারে। এছাড়া সামাজিক লজ্জাবোধ একটি বড় বাধা। বুকের গঠন পরিবর্তন হওয়া বা চাকা অনুভব করা সত্ত্বেও অনেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। যখন ব্যথা তীব্র হয় বা ক্ষত তৈরি হয়, তখনই তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্টেজ-৩ বা স্টেজ-৪ এ পৌঁছে যায়।

লক্ষণগুলি কী কী?
পুরুষদের স্তন ক্যানসারের উপসর্গগুলো সাধারণত মহিলাদের মতোই হয়, তবে পুরুষদের স্তন টিস্যু কম থাকায় ক্যানসার দ্রুত সংলগ্ন পেশিতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

স্তনে শক্ত পিণ্ড বা চাকা অনুভব করা (যা সাধারণত ব্যথাহীন)।

স্তনবৃন্তের আকার পরিবর্তন হওয়া বা ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।

স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত বা কোনো তরল নিঃসরণ।

স্তনের ত্বকে কুঁচকানো ভাব বা লালচে ভাব দেখা দেওয়া।

কাদের ঝুঁকি বেশি?
যদিও এটি বিরল, তবে বয়সের সাথে সাথে ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়। এছাড়া পারিবারিক ইতিহাস, জিনগত মিউটেশন (BRCA1 বা BRCA2), যকৃতের রোগ বা অতিরিক্ত স্থূলতা এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:
শুরুতে ধরা পড়লে পুরুষের স্তন ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তাই লজ্জা কাটিয়ে লক্ষণ দেখা মাত্রই ম্যামোগ্রাফি বা বায়োপসি করা জরুরি। মনে রাখবেন, রোগ কোনো লিঙ্গ দেখে আসে না। সচেতনতাই পারে আপনার জীবন বাঁচাতে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy