আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে চারদিকে ভ্যারিসেলা জোস্টার (Varicella Zoster) ভাইরাসের দাপট বাড়ে, যা চিকেনপক্সের মূল কারণ। যুগ যুগ ধরে মা-ঠাকুমারা বলে আসছেন, এই সময় সজনে ফুল বা ডাঁটা খেলে পক্স হবে না। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান কিন্তু এই চিরাচরিত বিশ্বাসকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না, তবে এর পেছনে রয়েছে অন্য এক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
সজনে কি সরাসরি ভাইরাস মারে?
চিকিৎসকদের মতে, সজনে সরাসরি চিকেনপক্সের ভাইরাসকে ধ্বংস করতে পারে না। অর্থাৎ, সজনে খেলে আপনার শরীরে পক্সের ভাইরাস ঢুকবে না— এমনটা ভাবা ভুল। তবে সজনে ফুল, পাতা এবং ডাঁটার মধ্যে থাকা বিশেষ কিছু উপাদান শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত করে।
কেন সজনে এই সময়ে মহৌষধ?
১. প্রাকৃতিক ইমিউনিটি বুস্টার: সজনে পাতায় কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি এবং গাজরের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ভিটামিন এ থাকে। এই শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
২. অ্যান্টি-ভাইরাল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ: সজনে ফুলে এমন কিছু অ্যালকালয়েড থাকে যা শরীরে ক্ষতিকর জীবাণুর বংশবিস্তারে বাধা দেয়। বসন্তকালে বাতাসে ভেসে বেড়ানো জীবাণুর হাত থেকে এটি সুরক্ষা দেয়।
৩. রক্ত পরিষ্কারক: সজনে ডাঁটা ও পাতা রক্তকে টক্সিনমুক্ত করতে সাহায্য করে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় থাকলে ভাইরাসের আক্রমণ হলেও তার তীব্রতা অনেক কম হয়।
৪. বসন্তের উপযোগী তিতা স্বাদ: আয়ুর্বেদ মতে, ঋতু পরিবর্তনের সময় তিতা বা কষা খাবার (যেমন সজনে ফুল বা নিম পাতা) খেলে শরীরের ভেতরের প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমে।
চিকিৎসকের পরামর্শ: শুধু সজনে কি যথেষ্ট?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সজনে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ভালো, কিন্তু এটি পক্সের ‘বিকল্প’ নয়।
টিকাকরণ: চিকেনপক্স প্রতিরোধের সবথেকে নিশ্চিত উপায় হলো ভ্যাকসিন বা টিকা নেওয়া।
সতর্কতা: সজনে খাওয়ার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে দূরে থাকা জরুরি।
রান্নার পদ্ধতি: সজনে ফুল বা পাতা অতিরিক্ত তেলে না ভেজে হালকা চচ্চড়ি বা সুক্তো করে খেলে এর পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।