শুধু বিরক্তি নয়, নাক ডাকা হতে পারে মারাত্মক রোগের পূর্বাভাস!

নাক ডাকা অনেক মানুষের জন্য একটি সাধারণ সমস্যা হলেও, যিনি নাক ডাকেন তার গভীর ঘুম হলেও আশেপাশে থাকা মানুষগুলোর রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। এই নিয়ে সংসারে অশান্তি থেকে শুরু করে বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ঘটনাও ঘটে। তবে শুধু পারিবারিক অভিযোগ নয়, চিকিৎসকরা বলছেন, নাক ডাকা আসলে একটি বড় বিপদের সংকেত হতে পারে, যার পরিণতি এমনকি মৃত্যুও হতে পারে!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)-এর মতে, আধুনিক জীবনযাত্রা ও পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে ঘুমের মধ্যেও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। মেদ বৃদ্ধি ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার কারণে এমনিতেই ঘুমের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সম্প্রতি চিকিৎসকরা নাক ডাকার অভ্যাসকেও ‘নিরাপদ’ বলতে নারাজ। শ্বাস-প্রশ্বাসের অসুবিধা ছাড়াও স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো মারাত্মক কারণও অতিরিক্ত নাক ডাকার পেছনে থাকতে পারে। ডাক্তারদের মতে, স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণে নাক ডাকার সমস্যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, যা মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

স্লিপ অ্যাপনিয়া:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি হেলথ জার্নালের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি মানুষ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত। জার্মানির মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের মতে, ঘুমের এই সমস্যা হৃদপিণ্ডের ডান এবং বাঁ দিকের ভেন্ট্রিকলের মারাত্মক ক্ষতি করে, ফলে শ্বাসপ্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই নাক ডাকাকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। অনেকের ধারণা, বয়স হলেই মানুষ নাক ডাকে। তবে এই পুরনো ধারণা বাদ দিয়ে স্লিপিং অ্যাপনিয়ার শিকার হচ্ছেন কিনা, তা জানতে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

উপসর্গ:

নাক ডাকা স্লিপ অ্যাপনিয়ার প্রধান উপসর্গ। এছাড়াও, সারাদিন একটানা ক্লান্তি, ঘুমঘুম ভাব এবং হঠাৎ করেই খিটখিটে মেজাজের শিকার হলে শরীরে এই রোগ বাসা বাঁধছে কিনা, সে বিষয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমিয়ে পড়ার পর ঘাড় ও গলার পেশি শিথিল হয়ে যায়। ফলে স্লিপিং ডিজঅর্ডার থাকলে শ্বাসযন্ত্রে চাপ পড়ে ও শ্বাসপ্রক্রিয়া বাধা পায়। এতে মস্তিষ্ক ও শরীরের কোষগুলিতে অক্সিজেন সরবরাহ হঠাৎ করেই অনেকটা কমে যায়। ফলস্বরূপ, স্লিপ অ্যাপনিয়ার প্রভাবে আকস্মিক শ্বাসপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা আছে বুঝতে পারলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
চিকিৎসার পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
খাওয়ার ঠিক পরেই শুয়ে না পড়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগব্যায়াম করুন।
হজমের সমস্যা কমানোর চেষ্টা করুন। এতে নাক ডাকার সমস্যা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।
শোয়ার ভঙ্গি পরিবর্তন করুন। চিত হয়ে না শুয়ে এক পাশ ফিরে ঘুমালে শ্বাসযন্ত্রের উপর চাপ কম পড়ে।
নাক ডাকা শুধু একটি বিরক্তিকর অভ্যাস নয়, এটি একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। তাই এই উপসর্গটিকে অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং সুস্থ জীবনযাপন করুন।