শরীরে মেদ বাড়লেই কি হৃদরোগের ফাঁদ? অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের এই ভয়ঙ্কর সত্য জানলে শিউরে উঠবেন!

আজকের দিনে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ফাস্টফুডের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব মানব সমাজে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যাকে এক মহামারী রূপ দিয়েছে। বেশিরভাগ মানুষই অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি জমাকে কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য হানি বা ফিটনেসের ঘাটতি হিসেবে ধরে নেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং সাম্প্রতিক বেশ কিছু কার্ডিওলজি গবেষণা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের অতিরিক্ত মেদ কেবল দেখতেই খারাপ লাগে না, বরং এটি মানুষের হৃৎপিণ্ডের ছন্দপতন বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের পরিভাষায় যাকে ‘অ্যারিথমিয়া’ (Arrhythmia) বলা হয়, তা ডেকে আনতে পারে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি।

কার্ডিওলজিস্ট ও গবেষকদের মতে, যখন আমাদের শরীরে বিশেষ করে পেটের চারপাশে বা ভিসারাল ফ্যাট (Visceral Fat) অতিরিক্ত মাত্রায় জমতে শুরু করে, তখন তা সরাসরি রক্ত চলাচল এবং মেটাবলিজমের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এই অতিরিক্ত চর্বি শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে প্রদাহ বা ক্রনিক ইনফ্লামেশন তৈরি করে। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের পেশীগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। আর তখনই হার্ট তার স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে অনিয়মিতভাবে স্পন্দিত হতে শুরু করে। এমনকি এই দীর্ঘস্থায়ী জটিলতার কারণে পরবর্তী সময়ে স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিওর এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মতো ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষ করে যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করেন এবং যাদের শরীরে মেদের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত, তাঁরাই এই ঝোঁকের সবচেয়ে বড় শিকার। অনেক সময় তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও ওজন বৃদ্ধির কারণে এই ধরনের কার্ডিয়াক সমস্যা দানা বাঁধছে, যা চিকিৎসকদের উদ্বেগের অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কেবল স্লিম বা রোগা হওয়ার জন্য নয়, বরং হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ ও সচল রাখার জন্যই ওজন নিয়ন্ত্রণ করা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই ভয়াবহ ঝুঁকি থেকে বাঁচতে জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রতিদিনের ডায়েটে প্রক্রিয়াজাত খাবার, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং অতিরিক্ত চিনি সম্পূর্ণ বর্জন করে টাটকা শাকসবজি, ফলমূল এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম বা কার্ডিও এক্সারসাইজ এবং নিয়মিত যোগাভ্যাস হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে জাদুর মতো কাজ করে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং শরীরকে সক্রিয় রেখে এই নীরব ঘাতক রোগ থেকে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।