সন্তানের হাতে মোবাইল নাকি বই? স্মার্টফোন থেকে দূরে সরিয়ে যেভাবে পড়বেন আসক্ত!

ডিজিটাল যুগের আধুনিকায়নে ও স্মার্টফোনের রমরমা বাজারে বড় হয়ে ওঠা বর্তমান প্রজন্মের কাছে বই পড়ার অভ্যাস দিন দিন এক আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন ভিডিও গেমের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তির কারণে শিশুরা আজ মাঠের খেলাধুলা তো বটেই, বইয়ের জগত থেকেও দূরে সরে যাচ্ছে। শিক্ষাবিদ ও শিশু মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শৈশবের এই অনভ্যাস ভবিষ্যতে শিশুদের সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি এবং মানসিক বিকাশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ছোটবেলা থেকেই সন্তানের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে না তুললে পরবর্তী সময়ে পড়াশোনার প্রতি তাদের অনীহা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। তাই অভিভাবক হিসেবে এখনই কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
সন্তানকে বইমুখী করে তোলার প্রথম এবং প্রধান কৌশল হলো ঘরের পরিবেশ বইবান্ধব করে তোলা। বাড়িতে যদি একটি ছোটখাটো বুকশেলফ থাকে এবং বাবা-মায়েদের নিজ হাতে পড়ার অভ্যাস থাকে, তবে শিশুরা অনুকরণ প্রিয়তার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়। টেলিভিশন বা মোবাইল স্ক্রিন বন্ধ করে নির্দিষ্ট একটি সময় ‘রিডিং আওয়ার’ বা পড়ার সময় হিসেবে নির্ধারণ করুন, যেখানে পরিবারের সবাই একসঙ্গে বই পড়বেন। দ্বিতীয়ত, বাচ্চার বয়স ও মানসিক রুচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আকর্ষণীয় রঙিন ছবিযুক্ত কমিকস, অ্যাডভেঞ্চার বা রূপকথার বই দিয়ে পড়ার যাত্রা শুরু করুন। জোর করে সিলেবাসের ভারী পাঠ্যবই পড়ার চাপ না দিয়ে হালকা ও বিনোদনমূলক গল্পের বই দিয়ে শুরু করলে বইয়ের প্রতি তাদের ভীতি কেটে যায়।
তৃতীয়ত, নিয়মিত তাদের সঙ্গে স্থানীয় বইমেলা, লাইব্রেরি বা চিলড্রেন বুক স্টোরে যাওয়ার অভ্যাস করুন। নিজের পছন্দমতো বই কেনার স্বাধীনতা শিশুকে আনন্দ দেয় এবং বইয়ের প্রতি এক ধরনের মালিকানাবোধ তৈরি করে। চতুর্থত, পড়ার বিষয়টিকে নিয়মের বেড়াজালে না বেঁধে একটি উপভোগ্য অভিজ্ঞতা বা রিওয়ার্ড সিস্টেমে রূপান্তর করুন। যেমন, কোনো একটি বই শেষ করার পর ছোটখাটো উপহার দেওয়া বা প্রশংসা করা তাদের উৎসাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অভিভাবকদের সম্মিলিত ও ধৈর্যশীল প্রচেষ্টাই পারে আজকের স্ক্রিন-আসক্ত প্রজন্মকে পুনরায় বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের এক আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।