সকালে না রাতে? দুধ খাওয়ার আসল সময় জানলে চমকে যাবেন, মারাত্মক ভুল করছেন না তো!

দুধকে বলা হয় সম্পূর্ণ আহার বা ‘কমপ্লিট ফুড’। ছোট থেকে বড়—সবার সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির জোগান দিতে এক গ্লাস দুধের জুড়ি মেলা ভার। ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২ এবং ফসফরাসে ভরপুর দুধ হাড়ের শক্তপোক্ত গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধ পানের যেমন রয়েছে অজস্র উপকারিতা, তেমনই ভুল সময়ে দুধ পান করলে তা উপকারের বদলে শরীরে বিষের মতো কাজ করতে পারে। দিনের কোন সময়ে দুধ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উপকারী, তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে রয়েছে নানা মতপার্থক্য।
প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, দুধ পানের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাতের বেলা ঘুমানোর আগে কুসুম গরম দুধ পান করা সবচেয়ে আদর্শ। রাতে দুধ খেলে তা শরীরে সহজে হজম হয় এবং এর মধ্যে থাকা ‘ট্রিপটোফ্যান’ নামক অ্যামিনো অ্যাসিড স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে গভীর ও প্রশান্তিদায়ক ঘুম নিশ্চিত করতে দারুণ সাহায্য করে। এছাড়া রাতে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং পেটের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতেও এটি অত্যন্ত কার্যকরী। অন্যদিকে, ছোট শিশু ও কায়িক পরিশ্রম বা শরীরচর্চা করেন এমন ব্যক্তিদের জন্য দিনের বেলা, বিশেষ করে সকালে দুধ খাওয়া শক্তি ও পুষ্টির জোগান দিতে সহায়ক।
তবে আধুনিক বিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতামত কিছুটা ভিন্ন। মডার্ন ডায়েটিশিয়ানদের একাংশের মতে, সকালের দিকে দুধ পান করলে তা সারাদিনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি এবং মেটাবলিজমের গতি বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সকালে বা ভারী খাবারের সঙ্গে দুধ পান করলে গ্যাসের সমস্যা, পেট ফাঁপা বা অ্যাসিডিটি বাড়তে পারে। এছাড়া খালি পেটে বা ভারী খাবারের ঠিক পরপরই দুধ খেলে শরীরের এনজাইমগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা হজম প্রক্রিয়াকে মন্থর করে দেয়।
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আপনার শরীরের হজম ক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করেই দুধ পানের সঠিক সময় বেছে নেওয়া উচিত। যাঁদের রাতে অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা নিঃসন্দেহে রাতের বেলা গরম দুধ পানের অভ্যাস করতে পারেন। আর যাঁরা সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় বাড়তি এনার্জি চান, তাঁরা সকালের নাশতার সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে দুধ রাখতে পারেন। তবে যেকোনো শারীরিক সমস্যা এড়াতে দুধের সঙ্গে টক জাতীয় ফল বা নোনতা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। সঠিক নিয়ম ও সময়ে দুধ পান করলেই মিলবে এর প্রকৃত পুষ্টিগুণ এবং শরীর থাকবে সুস্থ ও চাঙ্গা।