সিল্কি চুলের লোভে ডেকে আনছেন ক্যানসার-কিডনি ফেলিউর? কেরাটিন ও স্ট্রেটনিং নিয়ে চিকিৎসকদের ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা!

কোঁকড়ানো বা রুক্ষ চুলকে এক মুহূর্তে সিল্কি, মসৃণ ও সোজা করতে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট এবং হেয়ার স্ট্রেটনিংয়ের চাহিদা এখন তুঙ্গে। কিন্তু এই বাহ্যিক সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি! সম্প্রতি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— চুল স্ট্রেট করার কেমিক্যাল থেকে ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট এমনকি কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যাওয়ার মতো প্রাণঘাতী আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেয়ার স্ট্রেটনিং ও কেরাটিন ট্রিটমেন্টে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় ‘ফর্মালডিহাইড’ (Formaldehyde) নামক এক ক্ষতিকারক রাসায়নিক। অনেক সময় বোতলে ‘ফর্মালডিহাইড ফ্রি’ লেখা থাকলেও তাতে থাকা ফর্মালিন বা মিথিলিন গ্লাইকল ওপর থেকে ড্রায়ার বা ফ্ল্যাট আয়রনের তাপ পেলেই ফর্মালডিহাইড গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। ‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার’ (IARC) ইতিমধ্যেই এই রাসায়নিককে ক্যানসার সৃষ্টিকারী বা ‘কার্সিনোজেন’ উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে চোখ-নাক জ্বালা, কাশি ও শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি গলার ক্যানসার, সাইনোনেসাল ক্যানসার এবং ব্লাড ক্যানসারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
শুধু ক্যানসার নয়, ফর্মালডিহাইডের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ‘গ্লাইঅক্সিলিক অ্যাসিড’ (Glyoxylic Acid) আরও ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে মানবদেহে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান পত্রিকা ‘The New England Journal of Medicine’ এবং ‘Kidney International Reports’-এর বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্প দিয়ে এই কেমিক্যাল শরীরে প্রবেশ করে অক্সালেটে পরিণত হয়। ফলে রক্তে ক্যালসিয়াম জমাট বেঁধে আচমকা বিকল হয়ে যেতে পারে কিডনি। এমন একাধিক কেসে রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী ডায়ালিসিসের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।
এই মারাত্মক বিপদের কথা মাথায় রেখে বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং ইজরায়েল ইতিমধ্যেই ফর্মালডিহাইড ও গ্লাইঅক্সিলিক অ্যাসিড যুক্ত প্রসাধনী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। ভারতের বাজারেও নড়েচড়ে বসেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ‘সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন’ (CDSCO) অতিরিক্ত মাত্রায় (প্রায় ১০ শতাংশ) ফর্মালডিহাইড থাকায় ‘Beauty Garage 3X Keratin Hair Straightener’ নামক একটি পণ্যের লাইসেন্স সম্পূর্ণ বাতিল করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বাজারে এখনও এমন বহু অনিয়ন্ত্রিত ক্ষতিকারক প্রোডাক্ট রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের অজান্তেই শরীরে বিষ ঢালছে।
চুল সুন্দর রাখার চক্করে শরীরের বারোটা না বাজিয়ে তাই কেমিক্যাল মুক্ত অর্গানিক প্রোডাক্ট, সাময়িক হেয়ার স্টাইলিং বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে একযোগে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।