খুলে গেল কপাল! মোদীর এক নীতিতেই ভারতে নামবে ১৩ লক্ষ কোটি টাকার ‘সোনার বৃষ্টি’

বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ যখন টালমাটাল, ঠিক তখনই ভারত তার সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করতে চলেছে। আমেরিকা তার বাণিজ্য নীতিতে আরও বেশি সংরক্ষণবাদী পদক্ষেপ নিতে শুরু করলেও, নয়া দিল্লি এই পরিস্থিতিকে নিজেদের বিরাট সুযোগে পরিণত করেছে। ইউকে ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মতো বিশ্বসেরা অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর পাশাপাশি একাধিক দেশের সঙ্গে একের পর এক ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ (FTA) সম্পাদন করে ভারত তার বৈশ্বিক রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে ইতিহাস গড়েছে।

ব্লুমবার্গের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মডেল

ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে যে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (WTO)-এর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মডেল ব্যবহার করে হিসাব করা দেখা গেছে—এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলো ভারতের জন্য বিশাল আশীর্বাদ হয়ে আসছে।

নতুন আন্তর্জাতিক বাজার উন্মুক্ত হওয়া, কাঁচামালের আমদানি খরচ কমানো, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির সৌজন্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতিতে ১৪০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৩ লক্ষ কোটি টাকার অতিরিক্ত সংযোজন হতে চলেছে।

ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ভারতের স্ট্র্যাটেজিক চাল

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে বিশ্ব বাণিজ্যে অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর সারা বিশ্বের সাপ্লাই চেইনে বড় আঘাত লাগে। গাড়ি, ধাতু এবং সাধারণ পণ্যের ওপর নতুন কর আরোপ করায় মার্কিনী বাজার বিদেশি আমদানির জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার এই চ্যালেঞ্জকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে। বছরের পর বছর আটকে থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) চুক্তি কিংবা ব্রিটেনের সঙ্গে মেগা ট্রেড ডিল খুব দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়। আমেরিকা যখন রক্ষণাত্মক নীতি নিচ্ছে, তখন ভারত বিশ্ববাজারের জন্য নিজের দরজা খুলে দিয়ে বিশ্বস্ত ম্যানুফ্যাকচারিং ও ট্রেড হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য যুদ্ধের আবহ থাকা সত্ত্বেও ভারত সরকারের এই সময়োপযোগী ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতিকে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।