শরীরের এই ৮টি স্থানেও হতে পারে পাথর! জানুন লক্ষণ ও প্রতিকার

কিডনি, গলব্লাডার বা মূত্রাশয়ে পাথর জমার সমস্যার কথা আমরা অনেকেই জানি। তবে অবাক করার বিষয় হলো, শরীরের আরও বিভিন্ন অংশে পাথর জমতে পারে, যা হয়তো অনেকেরই অজানা। শরীরের কোথায় কোথায় পাথর জমতে পারে এবং তার লক্ষণগুলো কী, তা জানা থাকলে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক শরীরের সেই ৮টি স্থান সম্পর্কে যেখানে পাথর জমার প্রবণতা দেখা যায়:
১. কিডনি:
কিডনিতে পাথর জমা একটি অতি পরিচিত সমস্যা। ক্যালসিয়াম ও অক্সালেটসহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থের মাধ্যমে মূত্রনালিতে পাথর তৈরি হয়। এর প্রধান লক্ষণ হলো নিতম্ব ও পাঁজরের কাছাকাছি তীব্র ব্যথা, যা পিঠের দিকেও ছড়াতে পারে। প্রস্রাব আটকে যাওয়া, প্রস্রাবে রক্ত বা পাথরের ছোট টুকরো দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ছোট পাথর সাধারণত প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে গেলেও, বড় পাথরের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
২. গলা (টনসিল):
ছোট-বড় অনেকেই টনসিলের সমস্যায় ভোগেন। টনসিলের মধ্যে খাদ্যকণা, মৃত কোষ বা অন্যান্য debris জমে শক্ত হয়ে পাথরের মতো আকার নিতে পারে, যাকে ‘টনসিলোলিথ’ বলা হয়। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে গলা ব্যথা, মুখে দুর্গন্ধ এবং গলার ভেতরে সাদাটে দাগ। ঢোক গিলতে অসুবিধা ও ব্যথাও হতে পারে। সাধারণ টুথব্রাশ বা কটন বাডের সাহায্যে আলতো করে এই পাথর বের করা যায়। লবণ জলে গার্গলও এক্ষেত্রে উপকারী। সমস্যা না কমলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
৩. মূত্রাশয়:
দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রাশয়ে পাথর জমতে পারে। কিডনি থেকে ছোট পাথর মূত্রাশয়ে নেমে এসেও বড় আকার ধারণ করতে পারে। এর প্রধান লক্ষণ হলো ঘোলাটে বা রক্ত মিশ্রিত প্রস্রাব এবং প্রস্রাব করার সময় তলপেটে ব্যথা অনুভব করা। এই সমস্যার সমাধানে ওষুধ, সার্জারি এমনকি শব্দ তরঙ্গ বা লেজারের মাধ্যমে পাথর ভাঙার চিকিৎসাও उपलब्ध রয়েছে।
৪. গলব্লাডার (পিত্তথলি):
পেটের উপরের ডান দিকে অবস্থিত এই ছোট অঙ্গটি পিত্তরস সঞ্চয় করে। কোলেস্টেরল এবং বিলিরুবিনের মতো উপাদান পিত্তথলিতে পাথর তৈরির কারণ হতে পারে। এর ফলে পেটে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। পাথর সমস্যার কারণে ব্যথা হলে অনেক সময় পিত্তথলি কেটে বাদ দেওয়ার জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।
৫. প্রোস্টেট:
পুরুষদের মূত্রাশয়ের কাছে অবস্থিত প্রোস্টেট গ্রন্থিতেও পাথর জমতে পারে। মধ্যবয়সী বা তার বেশি বয়সের পুরুষদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো উপসর্গ না থাকলেও, অনেক সময় এই পাথর সংক্রমণের কারণ হতে পারে। ফলে প্রোস্টেটে ব্যথা এবং মূত্রনালীর সমস্যা দেখা দেয়। এর চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্যান্য পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে।
৬. মুখ (লালা গ্রন্থি):
অনেকেরই হয়তো অজানা, মুখের ভেতরেও পাথর হতে পারে। লালা গ্রন্থির নালীতে পাথর জমা হলে মুখের ভেতরে তীব্র ব্যথা হয় এবং খাবার খেতেও অসুবিধা হতে পারে। জিহ্বার নীচে সাদাটে পাথর দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণত বেশি জল পান করলে বা টক কিছু খেলে এই পাথর বেরিয়ে যায়।
৭. অগ্ন্যাশয়:
পেটের মাঝখানে অবস্থিত অগ্ন্যাশয় হরমোন তৈরি করে এবং খাবার হজমে সাহায্য করে। গলব্লাডার থেকে পাথর পিত্তনালীর মাধ্যমে অগ্ন্যাশয়ে গিয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, দ্রুত হৃদস্পন্দন, বমি বমি ভাব এবং পেটে তীব্র ব্যথা, যা খাওয়ার পরে আরও বাড়ে এবং পিঠের দিকে ছড়িয়ে যায়। পাথর নিজে থেকে না সরলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা বের করতে হতে পারে।
৮. নাক:
নাকের ভেতরে পাথর জমা একটি বিরল ঘটনা। শৈশবে নাকে কোনো শক্ত জিনিস আটকে গেলে পরবর্তীকালে তা পাথরে পরিণত হতে পারে। বছরের পর বছর ধরে ওই বস্তুটি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও লোহার মতো খনিজ পদার্থ আকর্ষণ করে বড় হতে থাকে। এর ফলে নাকে ব্যথা বা দুর্গন্ধযুক্ত শ্লেষ্মার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ডাক্তার বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে নাক পরীক্ষা করে এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন।
শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাথর জমার লক্ষণ সম্পর্কে অবগত থাকলে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা সম্ভব। তাই কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।