বিশ্বে বাড়ছে ফুসফুসের ক্যানসার: সাধারণ লক্ষণও হতে পারে বিপজ্জনক সংকেত

বর্তমান বিশ্বে অন্যান্য ক্যানসারের তুলনায় ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ধূমপান, দূষণ এবং অন্যান্য বিভিন্ন কারণে এই মারণব্যাধি ফুসফুসে বাসা বাঁধতে পারে। উদ্বেগের বিষয় হল, অনেকেই এই বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেন না।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, একটানা কাশি কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সাধারণ সমস্যাও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ এইগুলি ফুসফুস ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্কতা সংকেত হতে পারে। ফুসফুসের ক্যানসার খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। সেই কারণে, এর পূর্ব লক্ষণগুলি সম্পর্কে অবগত থাকা অত্যন্ত জরুরি।

আসুন, জেনে নেওয়া যাক ফুসফুসের ক্যানসারের তেমনই ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ বা সঙ্কেত, যা দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক:

১. দীর্ঘস্থায়ী কাশি: সর্দি লাগলে কাশি হওয়া স্বাভাবিক। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে একটানা কাশির সমস্যায় ভোগেন, তবে তা মোটেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। ফুসফুসে সমস্যার কারণে এমন কাশি দেখা দিতে পারে।

২. শ্বাসকষ্ট: অ্যাজমার সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা মাঝেমধ্যে শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। তবে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই যদি হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হয় অথবা আগের তুলনায় নিঃশ্বাস নিতে বেশি কষ্ট বোধ করেন, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। শ্বাসকষ্ট ফুসফুস ক্যানসারের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ।

৩. গলার স্বরের পরিবর্তন: সর্দি-কাশি বা গলা ব্যথার কারণে গলার স্বর ভাঙতে পারে এবং সাধারণত কিছুদিনের মধ্যেই তা সেরেও যায়। কিন্তু যদি আপনার গলার স্বরের স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে, অর্থাৎ সব সময়ই গলা ভাঙা থাকে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ফুসফুসে ক্যানসার বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব বিভিন্ন স্তরে পড়ে, যার ফলে গলার স্বর পরিবর্তিত হতে পারে।

৪. শরীরে ক্রমাগত ব্যথা: ভারি জিনিসপত্র তুললে বা দীর্ঘক্ষণ পরিশ্রম করলে শরীরে ব্যথা অনুভব হওয়া স্বাভাবিক। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে শরীরে ব্যথার সমস্যা থাকে, বিশেষ করে বুক, পিঠ ও কাঁধের आसपास, তবে তা ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে এবং একে অবহেলা করা উচিত নয়।

৫. অতিরিক্ত ক্লান্তি: ক্লান্তি ক্যানসারের একটি সাধারণ উপসর্গ। তবে অতিরিক্ত এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি যেকোনো গুরুতর রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়ার কারণে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কিছুটা কমে যায়, যার ফলে ক্লান্তি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে এইসব লক্ষণগুলি শনাক্ত করতে পারলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব এবং সেক্ষেত্রে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। তাই এই লক্ষণগুলি দেখা গেলে কাল বিলম্ব না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।