ইউরিন ইনফেকশন (UTI) এমন একটি রোগ যা নীরবে আমাদের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। অনেকেই মনে করেন এটি কেবল নারীদের রোগ, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন অসতর্ক জীবনযাপন এবং কিছু অভ্যাসের কারণে আজকাল পুরুষরাও এই সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে সংক্রমণের শুরুতেই সচেতন হলে এর বিড়ম্বনা অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই জেনে নিন ইউরিন ইনফেকশনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ:
প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন: এই রোগের প্রভাবে প্রস্রাবের স্বাভাবিক রং বদলে যেতে পারে। বেশ কিছুদিন ধরে যদি গাঢ় হলুদ বা লালচে রঙের প্রস্রাব হতে থাকে, তবে অবশ্যই সতর্ক হোন। এটি সংক্রমণের একটি প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা: প্রস্রাবের সময় যদি তীব্র জ্বালা বা অস্বস্তিকর ব্যথা অনুভব করেন, তবে এটি ইউরিন ইনফেকশনের একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ। এই অনুভূতি উপেক্ষা করা উচিত নয় এবং দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কাঁপুনি দিয়ে জ্বর ও বমি ভাব: সংক্রমণের তীব্রতা বাড়লে অনেকের কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে। এছাড়াও, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়াও ইউরিন ইনফেকশনের একটি উপসর্গ হতে পারে।
প্রস্রাবের স্বল্পতা বা বেগ সত্ত্বেও না হওয়া: যদি ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ অনুভব হয় কিন্তু প্রস্রাব না হয় অথবা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রস্রাবের পরিমাণ অত্যন্ত কমে যায়, তবে এটিও আশঙ্কার কারণ। এটি মূত্রাশয়ের কার্যকারিতায় সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
তলপেটে অস্বস্তিকর ব্যথা: অনেকের ক্ষেত্রে তলপেটের ঠিক নিচে একটি অস্বস্তিকর বা চাপা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই ব্যথা হালকা থেকে তীব্র হতে পারে এবং এটিও ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। তবে এই রোগ থেকে দূরে থাকতে আমাদের কিছু অভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এই ধরনের সংক্রমণ ঠেকাতে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও, কিছু খাবার আমাদের সুরক্ষা দিতে পারে:
সবুজ শাকসবজি ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার: খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল অন্তর্ভুক্ত করুন। ভিটামিন সি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
আনারস: যদি অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত কারণে আনারস খাওয়া বারণ না থাকে, তবে আপনার ডায়েটে আনারস যোগ করুন। আনারসে থাকা ব্রোমেলাইন নামক উপাদান মূত্রপথে সংক্রমণ রুখতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: প্রতিবার প্রস্রাব করার পর প্রস্রাবের জায়গা পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিন। শুধু তাই নয়, অপরিষ্কার অন্তর্বাস থেকেও নানা জীবাণু সংক্রমিত হতে পারে। তাই এগুলো ব্যবহারের সময়ও সতর্ক থাকুন এবং নিয়মিত পরিষ্কার অন্তর্বাস ব্যবহার করুন।
সচেতনতাই পারে ইউরিন ইনফেকশনের মতো অস্বস্তিকর রোগ থেকে আপনাকে রক্ষা করতে। তাই উপরে দেওয়া লক্ষণগুলি নজরে রাখলে এবং সঠিক অভ্যাস মেনে চললে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।