নিয়মিত ওটস খেলে যেসব রোগের ঝুঁকি কমে? জানাচ্ছে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা

আমাদের দেশে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের প্রকোপ অত্যন্ত বেশি, যার পরিণতি প্রায়শই ভয়াবহ হয়। বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান।
হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের প্রধান কারণ হলো রক্তনালীর ভেতরের দেওয়ালে কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সঞ্চয়, যা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস’ নামে পরিচিত। হৃদপিণ্ডের সংলগ্ন শিরা বা ধমনীতে এই ধরনের অবরোধ দেখা দিলে তা হৃদরোগের কারণ হতে পারে, ঠিক তেমনই মস্তিষ্কের রক্তনালীতে এই ঘটনা ঘটলে স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এই রোগের আশঙ্কা অনেকটাই কমাতে পারে। আর এই রোগগুলোর ঝুঁকি কমাতে ওটস একটি অত্যন্ত উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।
ওটসের উপকারিতা
খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) হ্রাস: অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল। নিয়মিত ওটস খেলে দেহে এই খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ অনেকটাই হ্রাস পায়।
অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের ভূমিকা: ওটসে থাকে অ্যাভেনানথ্রামাইড নামক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এটি প্রদাহ সৃষ্টিকারী একাধিক প্রোটিন কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও, শিরা ও ধমনীর দেওয়ালে আটকে থাকা বিভিন্ন উপাদান কমাতেও এটি সাহায্য করে।
ফাইবার সমৃদ্ধ: বিশেষজ্ঞদের মতে, ওটসের খোসাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা শিরা ও ধমনীকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
সুতরাং, স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা নিয়মিত ওটস খাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন, কারণ এটি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ওটস যোগ করে আপনিও সুস্থ জীবনের পথে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারেন।