বেতন পাবেন কি শিক্ষকরা? সুপ্রিম কোর্টে ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ মামলায় নজর সকলের

২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের জট কাটার আশায় আবারও তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে দেশের শীর্ষ আদালতের দিকে। গত সরকারের আমলের নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ অগাস্টের মধ্যে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার কথা থাকলেও, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আরও আট মাস সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন।
আজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সচিন সচদেবার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশন যদি আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময় পায়, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নতুন মেয়াদ আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে এই মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের অন্দরে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত শিক্ষকদের বেতন পাওয়ার কথা ছিল। এখন প্রক্রিয়া আরও আট মাস পিছিয়ে গেলে তারা আদৌ বেতন পাবেন কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধন্দ।
এর আগে এসএসসি-র চেয়ারম্যান দুষ্যন্ত নারিয়ালা সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, নির্ধারিত ডেডলাইনের মধ্যে এই বিশাল সংখ্যক শূন্যপদে নিয়োগ শেষ করা সম্ভব নয়। জাতিগত সংরক্ষণ নীতি সঠিকভাবে কার্যকরী করার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা এড়াতে আইনজীবীদের সঙ্গে দীর্ঘ পরামর্শও করতে হয়েছে কমিশনকে। অন্যদিকে, বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এই বিলম্ব নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত যোগ্যদের চাকরি সুনিশ্চিত করা দরকার।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্যানেল সংক্রান্ত আইনি জটিলতার পর থেকেই এই সংকটের শুরু। সুপ্রিম কোর্ট প্রথমে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিলেও পরবর্তীতে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩১ অগস্ট করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে আদালতের আজকের রায়ই ঠিক করে দেবে ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে।