একটিমাত্র ডিম খেলেই আয়ু বেড়ে যাবে পাক্কা ৭ বছর! জাপানের এই অভিশপ্ত উপত্যকার রহস্য জানলে চমকে উঠবেন

পৃথিবীর বুকে এমন কিছু রহস্যময় জায়গা রয়েছে, যেখানে পা রাখলে মনে হয় সরাসরি নরকের দুয়ারে এসে পৌঁছানো গেছে। চারদিকে ফুটন্ত জল, তীব্র সালফারের কটু গন্ধ আর গনগনে ধূসর ধোঁয়ায় মোড়া তেমনই এক ভয়ংকর উপত্যকা হলো জাপানের ‘ওয়াকুদানি ভ্যালি’ (Owakudani Valley)। কিন্তু এই ভয়ের আবহের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এমন এক অবিশ্বাস্য খাবার, যা দেখতে এবং যার লোককথা গোটা পৃথিবীকে অবাক করে দিয়েছে।
নরকের কোলের কালো ডিম (Kuro-Tamago)
জাপানের কানাগাওয়া প্রিফেকচারের এই হাকোন এলাকায় অবস্থিত ওয়াকুদানি ভ্যালি আসলে একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি অঞ্চল। জাপানি ভাষায় যার অর্থ ‘মহা-ফুটন্ত উপত্যকা’। এখানকার প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণের (Hot Spring) ফুটন্ত জলে সাধারণ মুরগির ডিম সেদ্ধ করা হয়। জলে প্রচুর পরিমাণে সালফার ও লোহা থাকায়, সেদ্ধ করার সময় খনিজের সঙ্গে ডিমের খোসার রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। ফলে খোসাটি একেবারে কয়লার মতো কুচকুচে কালো হয়ে যায়, যদিও ভেতরের অংশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সাদা থাকে।
কেন এই ডিম খেলে ৭ বছর আয়ু বাড়ে?
স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, প্রায় এক হাজার বছর পূর্বে জাপানি বৌদ্ধ সাধক কোবো দাইশি এখানে এসে এই ভয়ংকর পরিবেশ দেখে বিশেষ প্রার্থনা করেছিলেন। সেই থেকেই জাপানিদের বিশ্বাস, এই অদ্ভুত ‘কালো ডিম’ (Kuro-Tamago) খেলেই নাকি মানুষের আয়ু পাক্কা সাত বছর বেড়ে যায়! আর এই অন্ধবিশ্বাস ও রহস্যের টানেই প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ও অ্যানিমেপ্রেমী ছুটে যান এই বিপজ্জনক উপত্যকায়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি থাকায় মাঝেমধ্যেই এই এলাকা পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়। তবুও প্রকৃতির এই ভয়ংকর রূপ আর জাদুকরী ডিমের রহস্যের আকর্ষণ আজও একটুও কমেনি!