কান্নাকাটি করেই কমবে ওজন? গবেষণা কী বলছে?

ওজন কমানোর জন্য যেখানে জিমে ঘাম ঝরাতে হয় বা কঠোর ডায়েট মেনে চলতে হয়, সেখানে যদি বলা হয় কান্নাকাটি করেই ওজন কমানো সম্ভব, তাহলে কেমন হয়? অবাক হলেও সাম্প্রতিক গবেষণা তেমনই কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমাদের প্রাকৃতিক ও সহজাত এই প্রতিক্রিয়া, অর্থাৎ কান্না, শুধুমাত্র আবেগ প্রকাশের মাধ্যম নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে ওজন কমানোর রহস্যও।

শারীরিক ব্যথা, মানসিক চাপ, আনন্দ বা মনঃকষ্ট – নানা কারণে মানুষ কাঁদে। লস অ্যালটস এর অপ্টোমেট্রিক গ্রুপ-এর চিকিৎসক ডাঃ অ্যারন নিউ ফেল্ড চোখের জলের তিনটি প্রধান প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করেছেন: বাসাল (Basal), রিফ্লেক্স (Reflex) এবং ফিজিক্যাল টিয়ারস (Physical Tears)।

বাসাল টিয়ারস: এটি আমাদের চোখকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে, যা চোখের মৌলিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য।
রিফ্লেক্স টিয়ারস: বাইরের আবহাওয়া, ধুলোবালি, ধোঁয়া বা অন্য কোনো কারণে চোখে জ্বালা অনুভূত হলে যে জল আসে, সেটাই রিফ্লেক্স টিয়ারস।
ফিজিক্যাল টিয়ারস: এটি মানুষের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
কান্নার সঙ্গে ওজন কমার সম্পর্ক
সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে, রিফ্লেক্স টিয়ারসের সঙ্গে ওজন কমার একটি সম্পর্ক থাকতে পারে। এর কারণ হলো, রিফ্লেক্স টিয়ারসের সঙ্গে হরমোন কর্টিসলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। রসায়নবিদ উইলিয়াম ফ্রে তাঁর পরীক্ষা থেকে পেয়েছেন, মানসিক চাপ সম্পর্কিত কান্নার ফলে শরীর থেকে অনেক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ (টক্সিক পদার্থ) বেরিয়ে যায়।

এই তথ্য থেকে অনুমান করা হচ্ছে যে, যদি কান্নার মাধ্যমে স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়, তাহলে আমাদের শরীর খুব বেশি চর্বি (ফ্যাট) সংরক্ষণ করতে পারবে না। সহজ কথায়, যখন আমরা বিশুদ্ধ আবেগের কারণে কাঁদি, তখন স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমে আসে। এই কর্টিসল হরমোন শরীরের চর্বি সঞ্চয়ে প্রভাব ফেলে। কর্টিসলের মাত্রা কমলে শরীর চর্বি কম সঞ্চয় করে, যা পরোক্ষভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে, এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। শুধুমাত্র বিশুদ্ধ আবেগের ফলে যে কান্নাকাটি করা হয়, তাতেই ওজন কমার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ, জোর করে বা কৃত্রিম উপায়ে কান্না তৈরি করলে তা কার্যকরী হবে না।

বিজ্ঞানীরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন যে, সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে কাঁদলে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে তা সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে।