অল্প বয়সেই চুলে প্রোটিন কমে যায় যে কারণে?

সাধারণত ধারণা করা হয় যে, বয়স বাড়লেই চুলে পাক ধরে। কিন্তু চুল সাদা হওয়া বা পেকে যাওয়ার সঙ্গে বয়স বাড়া বা কমার সরাসরি সম্পর্ক নেই। আজকাল অল্প বয়সেই অনেকের চুলের ফাঁক থেকে উঁকি মারে পাকা চুল, যা যে কোনো মানুষের জন্যই বিব্রতকর। অনেকেই মনে করেন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও মানসিক চাপ এর পেছনে দায়ী। তবে বিশেষজ্ঞরা আরও কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন।
আধুনিক সমাজব্যবস্থায় কাজের ধরন বদলানোর কারণে মনের ওপর চাপ বেড়েছে। এর ফলে কম বয়সে চুল পাকতে দেখা যাচ্ছে। পরিবেশ দূষণ এবং আধুনিক জীবনযাত্রার স্ট্রেসের কারণেও অল্প বয়সেই চুল পেকে যায়। একবার চুল পাকতে শুরু করলে খুব দ্রুত মাথার বাকি অংশও সাদা হতে থাকে। তাই মাথায় সাদা চুল দেখা গেলেই সতর্ক হওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই চুলে পাক ধরতে শুরু করে। পাকা চুল কালো করতে অনেকে বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করেন, যা সাময়িকভাবে সাদা ভাব কমালেও দীর্ঘস্থায়ী কোনো সুফল দেয় না। বরং রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত এসব বাজারচলতি রং ব্যবহারে চুলের স্বাস্থ্য খারাপ হয় এবং পাকা চুলের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। একবার রং করার পর প্রায় ৭-১০ দিনেই আবার সাদা চুল উঁকি দেয়।
পাকা চুল কালো করার আগে জানা দরকার, কেন অল্প বয়সেই চুল পেকে যাচ্ছে। এর পেছনে কিছু খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার কারণ রয়েছে:
১. আমিষ ও তেলজাতীয় খাবার: শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে আমিষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু অত্যধিক পরিমাণে মাংস, বা তেলজাতীয় মাছ খেলে কম বয়সেই চুল পেকে যেতে পারে। তাই এই ধরনের আমিষ খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে না খাওয়াই ভালো।
২. প্রক্রিয়াজাত খাবার: বাজারে অনেক প্রক্রিয়াজাত খাবারে মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (MSG) পাওয়া যায়। এই উপাদানটির কারণে কম বয়সেই চুল পেকে যেতে পারে। তাই চুলের অকালপক্বতা রোধ করতে এ ধরনের খাবার বেশি পরিমাণে না খাওয়াই ভালো।
৩. অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার: অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলেও দ্রুত চুল পেকে যেতে পারে। শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি অল্প বয়সে চুল পাকার সমস্যা কমাতে এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলুন।
চুলের অকালপক্বতা রোধ করতে একটি সুষম খাদ্য তালিকা মেনে চলা এবং দুশ্চিন্তা কমানোর দিকে নজর দেওয়া জরুরি।