অনিয়মিত ঘুম ডেকে আনছে নীরব বিপদ, হার্ট অ্যাটাক থেকে ডায়াবেটিস!

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। দিনের ক্লান্তি দূর করে শরীরকে সতেজ রাখতে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুম অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বর্তমানের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনেকেরই ঘুমের সমস্যা রয়েছে। বিছানায় শুয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুম আসে না, আর এই অনিদ্রা থেকে মুক্তি পেতে অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ঘুমের ওষুধ সেবন করেন। কিন্তু, এটি খুবই বিপজ্জনক একটি অভ্যাস, কারণ ঘুমের ওষুধের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়মিত ঘুম বা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরে বিভিন্ন গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়ে। আসুন জেনে নিই, ঘুমের অভাবে কী কী মারাত্মক সমস্যা হতে পারে:

অনিয়মিত ঘুমের কারণে যেসব রোগের ঝুঁকি বাড়ে:
উচ্চ রক্তচাপ: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বা কম ঘুমালে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়তে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ঘুম না হলে শরীরের ‘লিভিং অরগানিজম’গুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, যার ফলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বাড়ে।

হৃৎপিণ্ডের সমস্যা: ঘুম কম হলে হৃৎপিণ্ডের সমস্যা বাড়তে পারে। ঘুমের সময় হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি বিশ্রাম পায়। তাই ঘুম কম হলে প্রতিনিয়ত কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা বাড়তে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে হার্টের গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে।

ডায়াবেটিস: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিন রাতে না ঘুমানো বা কম ঘুমানোর ফলে শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন ব্যাহত হয়, যা ডায়াবেটিসের পথ সুগম করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া: ঘুম শরীরের ক্ষতি পূরণ ও শক্তি সঞ্চয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। তাই ঘুম কম হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়। আমরা যখন ঘুমাই, তখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য দায়ী ‘লিভিং অরগানিজম’গুলো সক্রিয় থাকে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে ক্রমশ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে এবং আমরা সহজেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হই।

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা হ্রাস: মস্তিষ্কে ওরেক্সিন নামের একটি নিউরোট্রান্সমিটার আছে, যা মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সহায়তা করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ওরেক্সিন উৎপাদনের গতি মন্থর হয়ে যায়, যার ফলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

হজমের সমস্যা: প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হজমের সমস্যা বাড়তে পারে। না ঘুমালে শরীরের পাচন ক্রিয়ায় সাহায্যকারী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, ফলে খাবার হজমে সহায়ক পাচক রসগুলো উপযুক্ত মাত্রায় নিঃসরণে বাধা পায়।