অতিরিক্ত গরম চা পানে বাড়ছে ক্যান্সারের ঝুঁকি! সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

এক কাপ চা সারাদিনের ক্লান্তি দূর করলেও, এই চা অতিরিক্ত এবং বিশেষ করে অতিরিক্ত গরম অবস্থায় পান করা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা এবং ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরম চা পানের অভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে।
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ (এমসিএইচ সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট) ডা. শুভদীপ চক্রবর্তী এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন।
ডা. চক্রবর্তী জানান, শুধুমাত্র গরম চা বা কফি নয়, যেকোনো ধরনের পানীয় অতিরিক্ত গরম অবস্থায় পান করলে তা আমাদের খাদ্যনালির অভ্যন্তরের আস্তরণের মারাত্মক ক্ষতি করে। এর ফলে খাদ্যনালির কোষগুলোকে ক্রমাগতভাবে নতুন করে জন্মানোর প্রয়োজন হয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “খাদ্যনালিতে এই মেরামতির পর্যায়েই কোষের ক্যান্সারজনিত রূপান্তর ঘটে, যা খাদ্যনালির ক্যান্সারের দিকে পরিচালিত করে।”
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত গরম পানীয় খাদ্যনালির স্ফিঙ্কটার প্রক্রিয়াকে শিথিল করতে পারে এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সের দিকে পরিচালিত করে। এর ফলে গ্যাস্ট্রো-এসোফেজিয়াল জাংশন বা পাচনতন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ক্যান্সার গবেষণার আন্তর্জাতিক সংস্থার (IARC) রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এর বেশি গরম পানীয় লেভেল ২এ কার্সিনোজেনের সমতুল্য ক্ষতিকর, যা ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।
আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির একদল গবেষক তাদের রিপোর্টে দাবি করেছেন, অতিরিক্ত গরম চা খাওয়ার অভ্যাস কণ্ঠনালির বা গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে! উত্তর-পূর্ব ইরানের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের উপর গবেষণা চালিয়ে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। উল্লেখ্য, কণ্ঠনালীর ক্যান্সারে প্রতি বছর ৪ লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। গরম চা বা কফি ছাড়াও মাত্রাতিরিক্ত ধূমপান এবং মদ্যপানের অভ্যাসও এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
ডা. চক্রবর্তী আরও জানান, শুধু ইরানেই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলিতেও বেশিরভাগ মানুষের অভ্যাস ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরম চা পান করা। তাঁর মতে, ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম উষ্ণ চা খাওয়াটাই স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযুক্ত। এর চেয়ে বেশি গরম চা পান করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়বে।
তাই, চা বা কফি পান করার আগে খেয়াল রাখবেন যেন তা অতিরিক্ত গরম না হয়। আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই সামান্য পরিবর্তনটিই অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।