স্ট্রোক, নীরব ঘাতক থেকে বাঁচতে জানতে হবে লক্ষণ ও প্রতিকার

স্ট্রোক মস্তিষ্কের রক্তনালির একটি গুরুতর রোগ, যা সম্পর্কে অনেকেরই সঠিক ধারণা নেই। মস্তিষ্কের রক্তনালি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে অথবা ফেটে গেলে স্ট্রোক হয়। এটি একটি জরুরি অবস্থা, যা দ্রুত চিকিৎসা না করালে জীবন সংশয় বা গুরুতর পঙ্গুত্বের কারণ হতে পারে। মনে রাখতে হবে, স্ট্রোক কখনও আঘাতজনিত কারণে হয় না। প্রায় ৮০ শতাংশ স্ট্রোক রক্তনালি বন্ধ হওয়ার কারণে ঘটে। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা মাত্রই দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো অত্যন্ত জরুরি।
স্ট্রোক কী?
মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার ফলে যে দ্রুত জটিলতা দেখা দেয়, তাকে বলা হয় স্ট্রোক। স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া মানেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যাওয়া। এর ফলে বেঁচে যাওয়া রোগী পঙ্গুও হয়ে যেতে পারে। তবে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আপনাকে স্ট্রোকের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে পারে।
যে সব লক্ষণে বুঝবেন স্ট্রোক:
স্ট্রোকের লক্ষণগুলো হঠাৎ করে প্রকাশ পায় এবং দ্রুত শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. কথা বলতে অসুবিধা: কথা বলতে বলতে আচমকা জিভ অসাড় হয়ে যাওয়া এবং অল্প সময়ের জন্য চোখে অন্ধকার হয়ে যাওয়া।
২. শরীরের একদিক অসার হয়ে যাওয়া: কাজ করতে করতে হাত-পা বা শরীরের কোনো একদিক হঠাৎ পক্ষাঘাতগ্রস্ত (অবশ) হয়ে যাওয়া।
৩. দৃষ্টি সমস্যা: চোখে দেখতে সমস্যা হয়। ঝাপসা দৃষ্টি বা ডাবল ভিশন (একটি জিনিস দুটি দেখা) হতে পারে।
৪. ঢোক গিলতে সমস্যা: কথা বলতে অসুবিধা এবং ঢোক গিলতে সমস্যা হওয়া। মুখ থেকে লালা বেরোতে থাকা অথবা সম্পূর্ণ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যাওয়া।
স্ট্রোক প্রতিরোধে কী করবেন?
স্ট্রোক একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। কিছু জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সতর্কতা অবলম্বন করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব:
১. রক্তচাপ ও সুগার নিয়ন্ত্রণ: স্ট্রোক আটকাতে অবশ্যই প্রেশার এবং সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। নিয়মিত পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন জরুরি।
২. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত হাঁটা: ওজন স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং নিয়ম করে প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা একটানা হাঁটতে হবে।
৩. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: বাড়িতে রান্না করা টাটকা সবজি এবং মাছ-মাংস খেতে হবে। বাইরের খাবার খাওয়া যথাসম্ভব বন্ধ করুন। অতিরিক্ত তেল, লবণ এবং চিনিযুক্ত খাবার পরিহার করুন।
৪. ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ: ধূমপান ও মদ্যপানের বদভ্যাস অবশ্যই ছাড়তে হবে। এই দুটি অভ্যাস স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ।
৫. টিআইএ-এর পর চিকিৎসকের পরামর্শ: যদি ‘মাইনর অ্যাটাক’ বা ‘ট্রানজিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক’ (TIA) হয়, তবে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। টিআইএ হল একটি সতর্ক সংকেত যে ভবিষ্যতে বড় স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্ট্রোক একটি গুরুতর রোগ হলেও সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। লক্ষণগুলো সম্পর্কে জেনে রাখুন এবং কোনো সন্দেহ হলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।