সুইং অফ কিং আর বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার তৈরি করেছিলেন দুই বোন! তাঁদের ত্যাগের কথা জানলে চোখ ভিজে যাবে

রক্ষা বন্ধনের এই পবিত্র তিথিতে ভাই-বোনের অটুট বন্ধন ও ত্যাগের উদযাপনের পাশাপাশি ভারতীয় ক্রিকেটের দুই লিজেন্ড রবীন্দ্র জাদেজা এবং ভুবনেশ্বর কুমারের নেপথ্য নায়িকাদের সংগ্রামের গল্প আজ অনুপ্রেরণা জোগায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাঁদের ঝুলিতে রয়েছে সম্মিলিতভাবে ৯৩৬টি উইকেট এবং ৮,৭৫১ রান, সেই দুই তারকা আজ এই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারতেন না, যদি তাঁদের বড় বোনেরা নিজেদের সুখ বিসর্জন দিয়ে তাঁদের স্বপ্নের পথে ছায়া হয়ে না থাকতেন।

রেখা আদানা: ভুবিকে যিনি বানিয়েছিলেন ‘সুইংয়ের সুলতান’ মিরাটের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ভুবনেশ্বর কুমারের বাবা চাইতেন ছেলে সেনাবাহিনীতে যোগ দিক। পুলিশের চাকরির সুবাদে কড়া অনুশাসনে চলা পরিবারে ক্রিকেটের বিশেষ জায়গা ছিল না। কিন্তু ভুবনেশ্বরের বড় বোন রেখা আদানা ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর ভাইয়ের বল সুইং করানোর জাদুকরী প্রতিভা। ভুবির বয়স যখন মাত্র তেরো, তখন রেখা নিজে তাঁর হাত ধরে মিরাটের ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া পার্ক গ্রাউন্ডে নিয়ে যান। কোচ বিপিন ভাটস ও সঞ্জয় রাস্তোগীর সঙ্গে কথা বলে তাঁর ট্রেনিং শুরু করানোর পাশাপাশি বাবার অনুমতি আদায় করতেও বড় ভূমিকা নেন রেখা। আজও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৯৪ উইকেট ও ১,১৭১ রানের সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব নিজের বোনকেই দেন ‘কিং অফ সুইং’ ভুবনেশ্বর।

নয়না জাদেজা: মায়ের মৃত্যুর অন্ধকার থেকে যিনি ফিরিয়েছিলেন জাদেজাকে রবীন্দ্র জাদেজার সাফল্যের পথটি ছিল আরও বেশি কন্টকাকীর্ণ ও আবেগঘন। বাবা অনিরুদ্ধসিংহ জাদেজা মিলিটারি স্কুলে পাঠাতে চাইলেও মা লতা জাদেজার উৎসাহেই তিনি ক্রিকেট বেছে নেন। কিন্তু ১৬-১৭ বছর বয়সে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের আকস্মিক মৃত্যু জাদেজাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়। খেলা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ঠিক সেই চরম সংকটময় মুহূর্তে বড় বোন নয়না জাদেজা পরিবারের পাশে দাঁড়ান। ভাই যাতে কোনো আর্থিক সংকটে না পড়েন, সেজন্য তিনি নিজেই নার্সের চাকরি করে সংসার সামলান। মায়ের মৃত্যুর মাত্র ১২ দিন পর বিসিসিআই অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ক্যাম্পের ডাক আসায় নয়না জাদেজাকে মানসিকভাবে শক্ত করে মাঠে ফিরিয়েছিলেন। সেই আত্মবিশ্বাসই জাদেজাকে আজ ভারতের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন (৬৪২ উইকেট ও ৭,৫৮০ রান) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সবচেয়ে বড় অনুঘটকের কাজ করেছে।