কিডনি মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু সাধারণ ভুলের কারণে আমরা নিজেরাই অজান্তে এই মূল্যবান অঙ্গটির ক্ষতি করে ফেলছি। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
কিডনিকে সুস্থ রাখতে জলের গুরুত্ব অপরিসীম। আপনার শরীরের জন্য প্রতিদিন কতটা জল প্রয়োজন, সে বিষয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সেই অনুযায়ী জল পান করুন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান না করলে কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। শীতকালেও জল খাওয়া কমানো উচিত নয়। এমনকি কিডনিকে ভালো রাখতে তৃষ্ণা না পেলেও নির্দিষ্ট সময় পরপর জল পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
অনেকেরই সামান্য ব্যথা হলেই ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এই অভ্যাস আজই ত্যাগ করা উচিত। ব্যথানাশক ওষুধ কিডনির কোষের অতিরিক্ত ক্ষতি করে। একান্ত অসহ্য ব্যথা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খান, নিজের ইচ্ছামতো নয়।
খাবার টেবিলে অতিরিক্ত লবণ নেওয়ার অভ্যাস থাকলে তা পরিহার করুন। কিডনি আমাদের শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করতে পারে না। ফলে এই বাড়তি লবণের সোডিয়াম কিডনিতেই জমা হতে থাকে, যা কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং ধীরে ধীরে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অনেকেই বাইরে বের হলে বা কাজের চাপে দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখেন। এই অভ্যাস শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখলে তা কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘ দিন ধরে এই অভ্যাস বজায় রাখলে কিডনি সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই প্রস্রাবের বেগ পেলে কখনোই তা চেপে রাখবেন না।
কিডনিকে সুস্থ রাখতে আপনার খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনা জরুরি। মাংসের পরিমাণ কমিয়ে মাছ ও শাকসবজি বেশি পরিমাণে খান। চর্বি কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। মাংসের ফাইবারও বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে তা কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই মাংস খেলেও তা খুব মেপে খান।
এই সাধারণ ভুলগুলো শুধরে নিলে এবং সঠিক নিয়ম মেনে চললে আপনি আপনার কিডনিকে সুস্থ রাখতে পারবেন এবং দীর্ঘ জীবন লাভ করতে পারবেন। আপনার শরীরের প্রতি যত্ন নিন, কারণ কিডনি একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুনরুদ্ধার করা কঠিন।