দাঁত ব্রাশের সময় রক্ত পড়ছে? ক্যানসার নয় তো! ৫টি লক্ষণ যা এড়িয়ে যাওয়া মানেই বিপদ

মুখের সৌন্দর্য শুধু ঝকঝকে সাদা দাঁতেই নয়, বরং সুস্থ মাড়ির ওপর অনেকখানি নির্ভর করে। কিন্তু আমরা অনেকেই দাঁতের যত্ন নিলেও মাড়ির সমস্যাকে তুচ্ছ বলে এড়িয়ে যাই। চিকিৎসকদের মতে, মাড়ির সামান্য সংক্রমণ বা অবহেলা ভবিষ্যতে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এমনকি মাড়ির ক্যানসারের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে। মাড়ির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত যা আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্য বড় বিপদ হতে পারে, তা নিয়ে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।

১. মাড়ি থেকে রক্তপাত: দাঁত ব্রাশ করার সময় বা শক্ত কিছু খাওয়ার সময় যদি মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে, তবে বুঝবেন আপনার ‘জিঞ্জিভাইটিস’ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এটি মাড়ির রোগের প্রাথমিক পর্যায়।

২. মাড়ি ফুলে যাওয়া ও লালচে ভাব: সুস্থ মাড়ির রং হয় হালকা গোলাপি। যদি দেখেন মাড়ি অতিরিক্ত লাল হয়ে ফুলে রয়েছে এবং হাত দিলেই ব্যথা লাগছে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

৩. দীর্ঘস্থায়ী মুখের দুর্গন্ধ: মাড়িতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে মুখে একধরণের দুর্গন্ধ তৈরি হয়, যা মাউথওয়াশ বা ব্রাশ করেও কমে না। এটি মূলত মাড়ির গভীরে জমে থাকা ইনফেকশনের লক্ষণ।

৪. দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া: যদি মনে হয় আপনার দাঁত আগের মতো শক্ত নেই বা একটু নড়ছে, তবে বুঝতে হবে ব্যাকটেরিয়া আপনার দাঁতের হাড় এবং মাড়ির টিস্যুকে আক্রমণ করেছে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘পিরিওডন্টাইটিস’ বলা হয়।

৫. মাড়ি সরে যাওয়া (Gum Recession): আয়নায় তাকিয়ে যদি মনে হয় আপনার দাঁতগুলো আগের চেয়ে লম্বা হয়ে গেছে, তবে সাবধান! এর মানে হলো আপনার মাড়ি নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে, যার ফলে দাঁতের গোড়া উন্মুক্ত হয়ে অকালেই দাঁত পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

মাড়ির এই সমস্যাগুলো এড়াতে দিনে অন্তত দুবার ব্রাশ করা এবং ফ্লস করা জরুরি। পাশাপাশি প্রতি ছয় মাস অন্তর দন্ত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে দাঁত স্কেলিং বা পরিষ্কার করানো উচিত। মনে রাখবেন, মাড়ির সুস্বাস্থ্যই আপনার দীর্ঘায়ু ও সুস্থ হাসির চাবিকাঠি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy