বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্যানসার বর্তমানে বিশ্বে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। প্রতি ছয়জনের মধ্যে একজন এই মারণ রোগে প্রাণ হারাচ্ছেন এবং আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন মেনে চললে এই রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বিশেষ করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু বিশেষ খাবার যোগ করলে ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
আসুন, জেনে নেওয়া যাক সেই ৫টি গুরুত্বপূর্ণ খাবার সম্পর্কে:
১. ব্রকলি: ব্রকলি একটি শক্তিশালী ক্যানসার-প্রতিরোধী সবজি। এতে সালফোরাফেন নামক একটি যৌগ থাকে, যা ক্যানসার বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। এই যৌগটি স্তন ক্যানসার এবং প্রোস্টেট ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, নিয়মিত ব্রকলির মতো ক্রুসিফেরাস সবজি বেশি খেলে কোলন এবং মলদ্বার ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে।
২. তৈলাক্ত মাছ: স্যামন, ম্যাকেরেল এবং অ্যাঙ্কোভির মতো তৈলাক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি, পটাশিয়াম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত দুবার তৈলাক্ত মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
৩. আপেল: আপেলে পলিফেনল নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌগ বিদ্যমান। এই যৌগটি প্রদাহ, হৃদরোগ এবং বিভিন্ন সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। বিশেষভাবে, ফ্লোরেন্টিন নামক একটি পলিফেনল সুস্থ কোষের ক্ষতি না করেই স্তন ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে সক্ষম। প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়া তাই ক্যানসার প্রতিরোধের একটি সহজ উপায় হতে পারে।
৪. গাজর: গাজর খেলে পাকস্থলী, প্রস্টেট এবং ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল ধূমপায়ীরা নিয়মিত গাজর খান না, তাদের ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় বেশি থাকে। গাজরে থাকা ক্যারোটিনয়েড নামক উপাদান ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
৫. আঙুর: আঙুরে রেসভেরাট্রল নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অত্যন্ত সহায়ক। আঙুর এবং তার বীজে ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনোলিক অ্যাসিড, অ্যান্থোসায়ানিন, প্রোঅ্যান্থোসায়ানিডিন এবং ক্যাটেচিনের মতো উপাদান রয়েছে, যা মারণ কোষের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করতে পারে। নিয়মিত আঙুর খাওয়া তাই ক্যানসার প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র এই খাবারগুলি গ্রহণ করলেই ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি। তবুও, এই খাবারগুলিকে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যেতে পারে।