বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক নক্ষত্রপতন ঘটেছিল মাত্র ৪১ বছর বয়সে। বাংলা সিনেমার সেই কিংবদন্তি অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরীর বর্ণময় অথচ করুণ জীবন কাহিনী এবার উঠে আসতে চলেছে বড়পর্দায়। প্রযোজক রাণা সরকারের প্রযোজনায় এবং পরিচালক রাজদীপ ঘোষের পরিচালনায় তৈরি হতে চলেছে বায়োপিক ‘গুনগুন করে মহুয়া’। ইতিমধ্যেই সিনেমাটির শুটিং জোরকদমে চলছে এবং বেশিরভাগ অংশের কাজ শেষের পথে। আশির দশকের সেই জনপ্রিয় নায়িকার অকাল প্রয়াণ আজও দর্শকদের হৃদয়ে ক্ষত তৈরি করে, আর সেই আবেগকে সঙ্গী করেই এই ছবি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই ছবিতে মহুয়া রায়চৌধুরীর চরিত্রের গভীরতা ফুটিয়ে তোলার জন্য দুই অভিনেত্রীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মহুয়ার তরুণীবেলার চরিত্রে দেখা যাবে দিব্যাণী মণ্ডলকে এবং প্রাপ্তবয়স্ক মহুয়ার চরিত্রে অভিনয় করছেন অঙ্কিতা মল্লিক। মহুয়ার অভিনয় জীবনের নেপথ্যে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য, সেই কালজয়ী পরিচালক তরুণ মজুমদারের চরিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তুলছেন অভিনেতা কোরক সামন্ত। তরুণ মজুমদারের হাত ধরেই ‘শ্রীমাণ পৃথ্বীরাজ’ ছবির মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে পা রেখেছিলেন মহুয়া। সারাজীবন অভিভাবকের মতো তরুণ মজুমদার যেভাবে মহুয়ার পাশে থেকেছেন, সেই গুরু-শিষ্যার সম্পর্ক পর্দায় দেখতে পাওয়ার অপেক্ষায় দর্শক। অভিনেতা কোরক ইতিমধ্যেই তাঁর অংশের শুটিং সম্পন্ন করেছেন।
বায়োপিকটিতে আরও এক প্রবাদপ্রতিম পরিচালক তপন সিনহার চরিত্রে অভিনয় করছেন অরিন্দম শীল। অভিনেত্রী মহুয়ার পারিবারিক জীবনের টানাপোড়েন ও লড়াইকে ফুটিয়ে তুলতেই চিত্রনাট্যে রাখা হয়েছে তাঁর বাবা নীলাঞ্জন রায়চৌধুরীর চরিত্রটি, যেখানে অভিনয় করছেন লোকনাথ দে। একজন ছাপোষা মধ্যবিত্ত পিতার মেয়ের নাচের স্বপ্নপূরণের লড়াই এখানে বিশেষভাবে ফুটে উঠবে। এছাড়া, প্রয়াত অভিনেত্রীর দিদির চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় গায়িকা দেবলীনা নন্দী, যাঁর এটিই প্রথম অভিনয়।
ছবির ক্যানভাসে মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা অন্যান্য নক্ষত্রদেরও দেখা যাবে। ‘মহানায়ক’ উত্তমকুমারের চরিত্রে দেখা যাবে তথাগত মুখার্জিকে এবং সন্ধ্যা রায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন ঋদ্ধিমা ঘোষ। মহুয়ার এক শুভাকাঙ্ক্ষী কাল্পনিক চরিত্রে থাকছেন অর্পণ ঘোষাল। ক্যামেরার নেপথ্যে অর্থাৎ সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে রয়েছেন দিব্যজ্যোতি দত্ত। সব মিলিয়ে মহুয়া রায়চৌধুরীর সেই সোনালী দিনগুলো এবং পর্দার বাইরের বিষাদময় জীবনকে কতটা নিপুণভাবে এই বায়োপিকে তুলে আনা সম্ভব হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। চলচ্চিত্র মহলের আশা, ‘গুনগুন করে মহুয়া’ শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রীর জীবনী নয়, বরং বাংলা সিনেমার এক সমৃদ্ধ সময়ের দলিল হয়ে উঠবে।





