মিমি চক্রবর্তীর শুটিংয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের নিষেধাজ্ঞা? প্রকাশ্যে এল বিস্ফোরক অভিজ্ঞতার কথা

টলিউডের অন্দরে স্বরূপ বিশ্বাস ও ফেডারেশনের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ অবশেষে প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘কুইনস’-এর পরিচালক নির্ঝর মিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় এক চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। তাঁর এই পোস্ট ঘিরে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে।

পরিচালক জানিয়েছেন, সেদিন শুটিং সেটে পুরো টিম দারুণ ছন্দে ছিল। ইশারায় সব কাজ চলছিল এবং লাঞ্চ পর্যন্ত সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছিল। শুটিংয়ের ১৪ ঘণ্টার দীর্ঘ পরিকল্পনা ছিল এবং রাত ১২টা নাগাদ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সন্ধ্যা ৮টার সময় প্রোডাকশন বেস থেকে খবর আসে যে, ‘নাইট পারমিশন’ পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সাধারণত রাত ১০টার পর শুটিং চালিয়ে যেতে হলে ফেডারেশন থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। প্রোডাকশন ম্যানেজার ভীত অবস্থায় পরিচালককে অনুরোধ করেন স্বরূপ বিশ্বাসকে ফোন করে পরিস্থিতি বোঝাতে।

নির্ঝর মিত্র শুটিং থামিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসকে ফোন করলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনোভাবেই নাইট পারমিশন দেওয়া সম্ভব নয়। ফেডারেশনের দাবি, আগের দিন পরিচালক নাকি নিয়ম ভেঙে দু’ঘণ্টা অতিরিক্ত শুটিং করেছিলেন, তাই এই শাস্তি। যদিও পরিচালক জানিয়েছেন, আগের দিন সেই অতিরিক্ত সময়ের জন্য ফেডারেশনের সেক্রেটারি মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলেন, তবুও আজ তাঁকে সেই ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে। রাগে কাঁপতে কাঁপতে পরিচালক বাধ্য হয়েই মাঝপথে ‘প্যাক আপ’ ঘোষণা করেন। এতে গোটা টিম অবাক হয়ে গিয়েছিল। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেছেন, “আমরা সবাই মনে মনে ‘হৌসলা বুলন্দ রহে’ বলতে বলতে বাড়ি ফিরে পরের দিনের প্রস্তুতি নিলাম।”

উল্লেখ্য, গত ৪ মে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে টলিউডের একাধিক পরিচালক ও প্রযোজক ফেডারেশনের খবরদারি এবং হয়রানি নিয়ে সরব হয়েছেন। কাজ আটকে দেওয়া, জোর করে ইউনিয়নের লোক নেওয়া এবং নাইট পারমিশন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার মতো বহু অভিযোগ বহু বছর ধরে জমে ছিল। স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর এখন যেন সেই সব ক্ষোভের বাঁধ ভেঙেছে। অনেকেই বলছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এতদিন টলিউডের সৃজনশীলতাকে গলা টিপে ধরা হয়েছিল। নির্ঝর মিত্রর এই অভিজ্ঞতাই প্রমাণ করে যে, কীভাবে ইউনিয়নের দাদাগিরির কারণে একটি প্রোডাকশনকে অর্থনৈতিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে এখন এই স্বেচ্ছাচারী ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বদল চাইছে শিল্পীমহল।