মঙ্গেশকর পরিবারের সাফল্যের চাবিকাঠি কি ছিল জ্যোতিষ? জন্মবার্ষিকীতে জানুন লতা-আশার বাবা দীনানাথের অজানা প্রতিভা

ভারতীয় সংগীত জগতের দুই নক্ষত্র লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলের সাফল্যের নেপথ্যে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু দীনানাথ মঙ্গেশকর (Deenanath Mangeshkar) কেবল একজন দক্ষ ধ্রুপদী সংগীতশিল্পী বা নাট্যব্যক্তিত্বই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন উচ্চমানের জ্যোতিষীও। আজ এই কিংবদন্তি শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকীতে ফিরে দেখা যাক তাঁর জীবনের সেই বিস্ময়কর দিকগুলো।

সংখ্যাতত্ত্ব ও সাফল্যের সমীকরণ:
দীনানাথ মঙ্গেশকর বিশ্বাস করতেন জ্যোতিষ ও সংখ্যাতত্ত্বের (Numerology) শক্তিতে। তাঁর প্রযোজিত নাটকগুলোর নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও ছিল বিশেষ জ্যোতিষ কৌশল। তিনি মনে করতেন, পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট এবং তৃতীয় অক্ষরে অনুস্বারযুক্ত নাম তাঁর জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনবে। তাঁর সেই বিশ্বাস বৃথা যায়নি; ‘রণদুন্দুভি’, ‘রাজসন্ন্যাস’ বা ‘দেশকণ্টক’-এর মতো নাটকগুলো সেই সময়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

লতা মঙ্গেশকরকে নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী:
জানা যায়, নিজের জ্যোতিষ জ্ঞান কাজে লাগিয়েই তিনি বড় মেয়ে লতার বিপুল সাফল্যের কথা আগেভাগেই টের পেয়েছিলেন। এমনকি লতার নাম পরিবর্তনের ইতিহাসেও জড়িয়ে আছে তাঁর আবেগ। প্রথম স্ত্রীর অকাল প্রয়াত কন্যা ‘লতিকা’-র স্মৃতিতে তিনি দ্বিতীয় পক্ষের বড় মেয়ে ‘হেমা’-র নাম বদলে রাখেন ‘লতা’, যা আজ বিশ্ববন্দিত।

জীবনসংগ্রাম ও প্রয়াণ:
১৯০০ সালে গোয়ার মঙ্গেশিতে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী বাল্যকালে ‘মঙ্গেশকর’ পদবি গ্রহণ করেন। তাঁর গায়কিতে মুগ্ধ হয়ে কিংবদন্তি বাল গন্ধর্ব তাঁকে ‘রুপোর মুদ্রার গালিচা’ দিয়ে বরণ করতে চেয়েছিলেন। ১৯৩৫ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজনাতেও নামেন তিনি। কিন্তু ১৯৩০-এর দশকের আর্থিক মন্দা ও শারীরিক অসুস্থতা তাঁকে গ্রাস করে। ১৯৪২ সালের এপ্রিলে মাত্র ৪১ বছর বয়সে পুণেতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বহুমুখী প্রতিভা। তাঁর স্মৃতিতে পুণেতে আজ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ‘দীনানাথ মঙ্গেশকর হাসপাতাল’।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy