বলিউড অভিনেত্রী শমিতা শেট্টিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই নিজের বয়স এবং বিবাহিত জীবন না থাকা নিয়ে লাগাতার ট্রোলের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। তবে এবার আর কোনো মন্তব্যই সহ্য করলেন না ‘মহব্বতেঁ’ খ্যাত অভিনেত্রী। কুরুচিকর ট্রোলারদের মুখের ওপর জবাব দিয়ে শমিতা সাফ জানিয়ে দিলেন, নারীর বয়স বা বিয়ের ভিত্তিতে বিচার করা চরম বিকৃত মানসিকতার পরিচয়।
ঘটনার সূত্রপাত অভিনেত্রীর শেয়ার করা একটি স্ক্রিনশটকে ঘিরে। জনৈক ইউজার শমিতাকে লিখেছিলেন, “আপনার বয়স হয়ে গেছে, আগের মতো আর সেই আবেদন নেই।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অভিনেত্রী পাল্টা জবাব দেন, “হ্যাঁ, আমাকে তো অন্যরকম দেখাবেই। সময়ের সঙ্গে সবকিছু বদলায়, এটাই তো জীবনের অমোঘ নিয়ম। কিছুই চিরকাল থাকে না, এমনকি শারীরিক সৌন্দর্যও নয়। তবে নিজের বয়স অনুযায়ী আমি শারীরিকভাবে সুস্থ, ফিট এবং মানসিকভাবে অত্যন্ত খুশি। ঈশ্বর যা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
শুধু এখানেই থামেননি শমিতা। এরপর আরও এক ইউজার তাঁকে আক্রমণ করে লেখেন, “সময়মতো বিয়ে করে নিলে আজ আপনার বাচ্চারা বড় হয়ে যেত।” এই মন্তব্যে কার্যত ফুঁসে ওঠেন অভিনেত্রী। শমিতা অত্যন্ত কড়া ভাষায় লেখেন, “আপনি বিয়ে করে কী এমন তীর মেরেছেন? সবচেয়ে বড় কথা, আপনারা সিঙ্গল মহিলাদের ফলো করেন কেন? শুধু এজ-শেমিং আর আপনাদের ওই গুহামানবদের মতো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য? দয়া করে আমাকে একটা উপকার করুন, এক্ষুনি আমাকে আনফলো করুন।”
শমিতার এই সপাট জবাব এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নেটিজেনদের একাংশ তাঁর সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অনুরাগীদের মতে, সমাজে মহিলাদের বিয়ের বয়স ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে অহেতুক কৌতূহল ও বিচার করার প্রবণতা রয়েছে, শমিতা সেটিরই যোগ্য জবাব দিয়েছেন। অনেকেই অভিনেত্রীর সমর্থনে এগিয়ে এসে জানিয়েছেন, একজন মহিলা কত বছর বয়সে বিয়ে করবেন বা করবেন না, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, ‘মহব্বতেঁ’, ‘জহর’, ‘বেওয়াফা’ এবং ‘ক্যাশ’-এর মতো একাধিক ছবিতে কাজ করা শমিতা শেট্টি রিয়্যালিটি শো-এর জগতেও বেশ জনপ্রিয়। ‘বিগ বস ১৫’, ‘ফিয়ার ফ্যাক্টর: খতরোঁ কে খিলাড়ি ৯’ এবং ‘ঝলক দিখলা যা ৮’-এর মতো শো-তে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছিল। তাঁকে শেষবার ‘দ্য টেন্যান্ট’ নামের একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল। শমিতার এই লড়াই প্রমাণ করল যে, স্টারডম বা বয়স কোনোটিই ট্রোলারদের নোংরা মানসিকতার কাছে মাথা নত করার কারণ হতে পারে না।





