‘ডন ৩’ ছবিকে ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা এবং ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজের (FWICE) ‘অসহযোগিতার নির্দেশিকা’— সব মিলিয়ে বলিউডের ‘ধুরন্ধর’ রণবীর সিং এখন চরম পেশাগত সঙ্কটের মুখে। একের পর এক বড় বাজেটের প্রজেক্ট এবং বিতর্কের ঘূর্ণাবর্তে যখন ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন সময় পার করছেন অভিনেতা, ঠিক তখনই তাঁকে দেখা গেল আধ্যাত্মিক গুরু সদগুরুর শরণাপন্ন হতে। জীবনের অর্থ ও অস্তিত্বের গভীরতা খুঁজতে গিয়ে কি তবে রণবীর নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন?
ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, ছবির শ্যুটিং শুরুর ঠিক আগে ‘ডন ৩’ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রযোজনা মহলে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, এফডব্লিউআইসিই (FWICE) অভিনেতার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার নির্দেশিকা জারি করেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এটি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে রণবীরের শ্যুটিং সেটে কলাকুশলীদের সহযোগিতা পাওয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হতে পারে। এমন চাপের মুখেই সদগুরুর সঙ্গে তাঁর কথোপকথন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।
সদগুরুর অনুষ্ঠানে রণবীর প্রশ্ন করেন, “জীবনের আসল উদ্দেশ্য কী?” উত্তরে আধ্যাত্মিক গুরু যা বলেছেন, তা যেন আজকের এই অস্থির সময়ের জন্য রণবীরের জীবনদর্শনকে এক নতুন দিশা দিয়েছে। সদগুরু রণবীরকে বুঝিয়ে বলেন, মানুষ জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজতে গিয়ে আসলে তার লাভ বা উপযোগিতা খোঁজে। কিন্তু জীবনের স্বরূপ কোনো ব্যবহারিক হিসেব-নিকেশে মাপা সম্ভব নয়। সদগুরুর কথায়, “জীবন কোনো উপযোগিতা নয়। কোনো উদ্দেশ্য নেই। আপনি না জন্ম নিলেও পৃথিবীর কিছু বলার ছিল না। জীবন এমন এক অনন্য ঘটনা, যা সমস্ত যৌক্তিকতার ঊর্ধ্বে।”
সদগুরুর এই গভীর দর্শন রণবীরের মতো তুখোড় অভিনেতাকে যেন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ করে দেয়। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সদগুরুর ব্যাখ্যা মন দিয়ে শোনার সময় রণবীরের মুখে ফুটে উঠছে মৃদু হাসি। অনুরাগীদের একাংশের ধারণা, ক্যারিয়ারের এই টানাপোড়েনের সময়ে রণবীর হয়তো বাইরের কোলাহল ছেড়ে নিজের ভেতরের শান্তিতে ফিরতে চাইছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সদগুরুর অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট হওয়ার পরেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও রণবীরের এই আধ্যাত্মিক অন্বেষণ বলিউডে এখন বড় চর্চার বিষয়। অনেকেই মনে করছেন, পেশাগত সাফল্য বা ব্যর্থতা—সব কিছুর ঊর্ধ্বে জীবনকে দেখার যে পাঠ সদগুরু দিলেন, তা হয়তো রণবীরকে মানসিক শক্তি জোগাবে। আবার অনেকে বলছেন, রণবীরের এই পদক্ষেপ আসলে এক ধরনের কৌশল, যার মাধ্যমে তিনি নেতিবাচক পরিস্থিতির মাঝে নিজের ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছেন। ক্যারিয়ারের কঠিন সন্ধিক্ষণে রণবীর সিং-এর এই আধ্যাত্মিক যাত্রা কি তাঁকে নতুন কোনো সাফল্যের পথে নিয়ে যাবে? নাকি বিতর্কের আঁচ প্রশমিত করতে এটি কেবলই একটি পদক্ষেপ? উত্তর দেবে সময়ই।





