বলিউড এবং গ্ল্যামার জগত—এখানে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হলো সৌন্দর্য। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন, অতিরিক্ত সুন্দরী হওয়ার কারণেই কোনো অভিনেত্রীকে বড় প্রজেক্ট থেকে বাদ পড়তে হয়েছে? শুনতে অবাক লাগলেও এমন এক বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী গৌহর খান। অস্কারজয়ী ছবি ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’ থেকে তাঁর বাদ পড়ার নেপথ্যে কোনো ব্যর্থতা নয়, বরং তাঁর ‘অতিরিক্ত রূপ’ই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
ড্যানি বয়েলের পাঁচ দফা অডিশন
মডেলিং থেকে ক্যারিয়ার শুরু করে ২০০৯ সালে ‘রকেট সিং: সেলসম্যান অফ দ্য ইয়ার’ দিয়ে বলিউডে পা রাখেন গৌহর। তবে এর আগেই তাঁর সামনে এসেছিল এক বিরাট আন্তর্জাতিক সুযোগ। ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’-এর কাস্টিংয়ের সময় পরিচালক ড্যানি বয়েলের নজরে আসেন তিনি। গৌহর জানিয়েছেন, ছবিটির জন্য তিনি এক-আধবার নয়, টানা পাঁচবার কঠোর অডিশন দিয়েছিলেন। তাঁর অভিনয় দক্ষতা দেখে স্বয়ং ড্যানি বয়েল এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি গৌহর ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনো অভিনেত্রী।
সৌন্দর্য যখন অভিশাপ
পঞ্চম রাউন্ডের অডিশনের পর ড্যানি বয়েল গৌহরকে ডেকে এক অদ্ভুত সত্যের মুখোমুখি করেন। তিনি বলেন, “তুমি একজন অসাধারণ অভিনেত্রী, কিন্তু তোমাকে আমি এই ছবিতে নিতে পারছি না।” গৌহরের অবাক হওয়ার পালা তখন চরমে। পরিচালক ব্যাখ্যা করেন যে, ছবিটি মুম্বাইয়ের বস্তি এবং সেখানকার কঠোর জীবন সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে তৈরি। কিন্তু গৌহরের চেহারা এতটাই আকর্ষণীয় এবং আন্তর্জাতিক মানের যে তাকে সেই রুক্ষ পরিবেশে কোনোভাবেই ‘বস্তিবাসী’ হিসেবে মানাবে না। ড্যানির মতে, গৌহরের মুখটা ছিল বস্তির ঝুপড়ির তুলনায় বড্ড বেশি গ্ল্যামারাস।
পরাজয়ের গ্লানি নয়, প্রশংসার আনন্দ
গৌহর তখন মিনতি করেছিলেন যে তিনি মেকআপ বা অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে সেই চরিত্রের উপযোগী করে তুলবেন। কিন্তু ড্যানি বয়েল অনড় ছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ছবির তিনটি ভিন্ন বয়সের স্তর সামলাতে গিয়ে গৌহরের সৌন্দর্য গল্পের বাস্তবতাকে নষ্ট করে দিতে পারে। যদিও এমন একটি অস্কারজয়ী ছবি হাতছাড়া হওয়া যে কোনো অভিনেত্রীর জন্য কষ্টের, কিন্তু গৌহর বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন। বিশ্বখ্যাত একজন নির্মাতার কাছ থেকে নিজের রূপ এবং গুণের এমন অকুণ্ঠ প্রশংসা পাওয়াকে তিনি আশীর্বাদ বলেই মনে করেন।
রকেট সিং-এর অভিজ্ঞতা
আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁর প্রথম ছবি ‘রকেট সিং’-এর সময়ও একই সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। ছবিতে তাঁর চরিত্রটি ছিল একজন সাধারণ চাকুরিজীবী মহিলার। সেখানেও তাঁর গ্ল্যামার কমাতে পরিচালক ইচ্ছাকৃতভাবে কিছুটা চড়া বা ‘অড’ মেকআপ ব্যবহার করেছিলেন যাতে পর্দায় তাঁকে অতিরিক্ত সুন্দরী না দেখায়। গৌহর খানের এই জীবনকাহিনী প্রমাণ করে যে, কখনো কখনো মেধার চেয়েও বেশি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে নিজের ব্যক্তিত্ব আর সৌন্দর্য।





