“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে”— মধ্যযুগের কবি ভারতচন্দ্র রায়ের সেই কালজয়ী প্রার্থনা আজও প্রতিটি বাবার হৃদস্পন্দনের মূল সুর। সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিতে রোদে পোড়া বা হাড়ভাঙা খাটুনি হাসিমুখে সহ্য করা সেই ‘সুপারহিরো’দের গল্প এবার বড় পর্দায়। আসন্ন ‘ফাদার্স ডে’ উপলক্ষে ১৯ জুন মুক্তি পেতে চলেছে পরিচালক জিৎ চক্রবর্তীর পঞ্চম সিনেমা ‘বাবা’। আবেগ, টানটান অ্যাকশন এবং সামাজিক বার্তা নিয়ে তৈরি এই ছবিটি জিতের প্রযোজক হিসেবেও প্রথম পদক্ষেপ।
তারকাসমৃদ্ধ কাস্টিং ও শক্তিশালী সংলাপ:
ছবির ট্যাগলাইন ইতিমধ্যেই ভাইরাল— “সন্তানের জন্য মরার আগে দু’বার ভাবব না, আর মারার আগে একবারও ভাবব না।” এই আগ্রাসী ভালোবাসা আর লড়াইয়ের গল্পে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন টলিউডের একঝাঁক অভিজ্ঞ শিল্পী— অপরাজিতা আঢ্য, মমতা শঙ্কর, কিরণ মজুমদার, কাঞ্চন মল্লিক, বিশ্বনাথ বসু ও দেবরাজ ভট্টাচার্য। পরিচালকের দাবি, এই ছবি কেবল বিনোদন নয়, বরং বাবার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা এক গভীর অনুভূতি।
গল্পের প্রেক্ষাপট: আবেগ বনাম কর্তব্য:
সিনেমার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে গৌরব নামের এক তরুণ সাংবাদিককে কেন্দ্র করে। অনাথ আশ্রমে বড় হওয়া গৌরব সারা জীবন চেয়েছেন পৃথিবীর সেরা বাবা হতে। তাঁর ছোটবেলার প্রেমিকা রাইয়ের সঙ্গে বিয়ে এবং কন্যাসন্তানের আগমনে তাঁর সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয়। কিন্তু শুরু হয় নতুন সংকট। নিজের সন্তানের প্রতি গৌরবের অতি-সুরক্ষাবোধ বা ‘ওভার প্রোটেকটিভ’ স্বভাব তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে এবং দাম্পত্যে তিক্ততা ডেকে আনে।
শিশুপাচার চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ:
গৌরবের এই ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের সমান্তরালে ফুটে উঠেছে সমাজের এক বীভৎস দিক। কলকাতার অন্ধকার গলিতে ছড়িয়ে থাকা শিশুপাচার ও ট্র্যাফিকিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লড়াইতে জড়িয়ে পড়েন সাংবাদিক গৌরব। একদিকে পেশার নৈতিক দায়িত্ব, অন্যদিকে নিজের সন্তানকে আগলে রাখার বাবার জেদ— এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে শুরু হয় এক অসম লড়াই। ছৌ নাচের বাউল সুরের বদলে এখানে শোনা যাবে এক অদম্য সংগ্রামের প্রতিধ্বনি।
উপসংহার:
রোমান্স, কমেডি আর পারিবারিক সম্পর্কের উত্থান-পতনের পাশাপাশি রাস্তার শিশুদের জীবনের দুর্দশাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই ছবিতে। ‘বাবা’ কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি প্রতিটি সেই মানুষের জন্য সম্মাননা যারা নিঃশব্দে নিজেদের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন। ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে ‘বাবা’র এই হার না মানা জেদ দর্শকদের চোখে জল আনার পাশাপাশি মনে সাহস জোগাবে।





