হাতে ব্যান্ডেজ, চোখে ঠান্ডা চাউনি! পুজোয় বড়পর্দায় ঝড় তুলতে আসছে ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’

টালিউডের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় পরিচালক জুটি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায়ের পরবর্তী মেগা প্রজেক্ট ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’ নিয়ে এখন থেকেই সিনেপ্রেমীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউজের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আসছে এই বহুল প্রতীক্ষিত ছবি। সম্প্রতি এই ছবির শুটিং শেষ হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ এবং তথ্যবহুল পোস্ট শেয়ার করেছেন পরিচালক তথা অভিনেতা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজেই। সেই পোস্টে ছবির মেকিং এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের একাধিক অজানা তথ্য তুলে ধরে তিনি লিখেছেন যে, ছবিটির জন্য মোট ৯৬টি আলাদা লোকেশনে শুটিং করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সিনিয়র ও জুনিয়র আর্টিস্ট মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার শিল্পী একসঙ্গে এই বিশাল কর্মকাণ্ডে কাজ করেছেন। হাসনাবাদ, টাকি, বারাসাত, বর্ধমান, বোলপুর, বিষ্ণুপুর থেকে শুরু করে মালদার বিভিন্ন সুদূর অঞ্চলে এই ছবির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। আগের ছবির মতো এবারেও বহু প্রথাগত বহুরূপী শিল্পীরা অভিনয় করেছেন, তবে এবারের সবথেকে বড় আকর্ষণ হলো মালদার ঐতিহ্যবাহী গম্ভিরা শিল্পীদের উপস্থিতি, যাদের গান এবং মুখোশ নাচ ছবির পর্দায় এক অনন্য মাত্রা যোগ করবে।
নির্বাচনী পর্বের কারণে ছবির শুটিং কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন পরিচালক। বিশেষ করে মে মাসের চরম ও প্রখর রোদ্দুরের গরমে শুটিং করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু টিম ‘বহুরূপী’-র অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং নিষ্ঠার ফলেই সেই কঠিন পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব হয়েছে। এর সমস্ত কৃতিত্ব ছবির কলাকুশলী এবং টেকনিশিয়ান বন্ধুদেরই দিয়েছেন পরিচালক, যাঁরা নিজেদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন। উল্লেখ্য, এই ছবি ঘিরে দর্শকদের কৌতূহল দ্বিগুণ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এর তারকাশিল্পী নির্বাচন। ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’ ছবিতে একেবারে নতুন অবতারে পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় ধরা দেবেন জনপ্রিয় অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত। অর্থাৎ আগের ছবির মতো পুলিশের চরিত্রে এবার আর আবির চট্টোপাধ্যায় থাকছেন না, তাঁর স্থলেই আসছেন যিশু। এই ছবিতে তাঁর চরিত্রের নাম রাখা হয়েছে আইসি অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর বিপরীতে খোদ পুলিশ অফিসারের স্ত্রীর চরিত্রে দেখা যাবে দক্ষ অভিনেত্রী সোহিনী সরকারকে, যাঁর চরিত্রের নাম রেশমি। উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউজের সঙ্গে এটি অভিনেত্রীর প্রথম কাজ হওয়ায় অনুরাগীদের মধ্যে উন্মাদনা আরও বেশি।
অন্যদিকে, ছবিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রেও থাকছে বড় চমক। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বিপরীতে পকেটমার ঝিমলি চরিত্রেই ফের একবার অভিনয় করতে দেখা যাবে কৌশানি মুখোপাধ্যায়কে। ইতিমধ্যেই প্রযোজনা সংস্থার তরফে প্রধান চরিত্রগুলির চোখধাঁধানো লুক প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বিক্রম প্রামাণিকের যে লুক সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে তাঁর হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা, হাত দিয়ে মুখ অর্ধেক ঢাকা এবং চোখে এক ঠান্ডা ও রহস্যময় চাউনি। কোনো এক চলন্ত বাসের জানালার ধারে বসে থাকা সেই লুকের ঠিক নিচেই পুলিশের উর্দিতে যিশু সেনগুপ্তের উপস্থিতি ছবির থ্রিলকে বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ছবির চমৎকার চিত্রনাট্য কলমবন্দী করেছেন জিনিয়া সেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২০২৬ সালের পুজোর মহামঞ্চে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ছবি। তবে বক্স অফিসের লড়াই যে একেবারেই সহজ হবে না, তা বলাই বাহুল্য। কারণ ২০২৬-এর পুজোর সময় বক্স অফিসে মুখোমুখি হতে চলেছে একাধিক হেভিওয়েট ছবি—যার মধ্যে রয়েছে ‘দেশু ৭’, ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ এবং জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবি ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’। এতকিছুর পর শেষ পর্যন্ত কোন ছবি দর্শকদের মন জয় করে বক্স office কাঁপায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলা বিনোদন জগৎ।