হলিউডের মতো হতে পারছে না টলিউড? শেষ মুহূর্তের শুটিং নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন নাগার্জুনা!

দক্ষিণী সিনেমার আঙিনায় নিজের স্পষ্ট ও খুরে ধারালো মতামতের জন্য বরাবরই পরিচিত প্রবীণ অভিনেতা আক্কিনেনি নাগার্জুনা। সম্প্রতি নিজের কনিষ্ঠ পুত্র অখিল আক্কিনেনির সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত বহুল আলোচিত ছবি ‘লেনিন’-এর বর্ণাঢ্য সাফল্য উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে টলিউড তথা সামগ্রিক দক্ষিণী চলচ্চিত্র শিল্পের এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলেছেন এই তারকা। অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকেই তিনি তেলেগু সিনেমার প্রযোজনা সংস্কৃতিতে জেঁকে বসা বারবার শেষ মুহূর্তে ছবির মুক্তির তারিখ স্থগিত ও বিলম্ব করার অস্বাস্থ্যকর ট্রেন্ডের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দেন। বিশ্বখ্যাত হলিউড ইন্ডাস্ট্রির উদাহরণ টেনে নাগার্জুনা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে, কেন হলিউডের মতো নির্মাতারা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করে আগে থেকে মুক্তির নির্দিষ্ট দিনক্ষণ পাকা করতে সক্ষম হলেও, টলিউডের বড় বাজেটের নির্মাতারা বরাবরই শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়োয় খেই হারিয়ে ফেলেন।

অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্যে নাগার্জুনা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্র শিল্পে পোস্ট-প্রোডাকশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলিতে লাগাতার বিলম্ব হওয়া একটি অতি সাধারণ ও ক্ষতিকর ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, সিজিআই, ভিএফএক্স, এডিটিং এবং সাউন্ড ডিজাইনিংয়ের মতো সংবেদনশীল কাজগুলি শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে শেষ করার প্রবণতা প্রায়শই একটি সম্ভাবনাময় চলচ্চিত্রের চূড়ান্ত মানের ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি সমস্ত টেকনিশিয়ান, পরিচালক এবং সংগীতশিল্পীদের জোরালোভাবে অনুরোধ করছি, ছবির মুক্তির অন্তত দুই সপ্তাহ আগে যদি আমরা সম্পূর্ণ কপিটি পোস্ট-প্রোডাকশন টিমের হাতে তুলে দিতে পারি, তবেই তারা সিনেমাটিকে নিখুঁত রূপ দিতে পারবে। এটি কেবল অন্যদের প্রোজেক্টের জন্যই নয়, আমার নিজের অভিনীত ছবির ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। আমি নিজেও এই ‘লেনিন’ ছবিটির জন্য একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অবিরাম কাজ করে গিয়েছি, যা কোনোভাবেই একটি স্বাস্থ্যকর কর্মসংস্কৃতির লক্ষণ নয়।”

হলিউড ও টলিউডের কার্যপদ্ধতির আকাশসম ফারাক বোঝাতে গিয়ে অস্কারজয়ী প্রখ্যাত ব্রিটিশ পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের কাজের সুনির্দিষ্ট উদাহরণ টেনে নাগার্জুনা বলেন, “সম্প্রতি হলিউডের মাস্টারপিস ‘দ্য ওডিসি’ মুক্তি পেয়েছে, যার মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ এক বছর আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। হলিউডের যদি বহু আগেই রিলিজ ডেট পাকা করার সংস্কৃতি থাকতে পারে, তবে ভারতীয় বা তেলেগু নির্মাতারা কেন তা করতে পারবেন না? আর যদি কোনো কারণে মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেও দেওয়া হয়, তবে বারবার কেন শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে দিতে হয়?” তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ব্যাখ্যা করেন যে, ঘন ঘন মুক্তির তারিখ পরিবর্তন করা এবং শিডিউল এদিক-ওদিক করা কেবল সাধারণ দর্শকদের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করে না, বরং ছবির বক্স অফিস ব্যবসায়িক সাফল্যেও মারাত্মক ও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

নিজের সোনালী অতীতের স্মৃতিচারণ করে অভিজ্ঞ এই অভিনেতা আরও বলেন যে, বিগত দিনে সিনেমার চূড়ান্ত প্রিন্ট বা কপি রিলিজের অন্তত কয়েক সপ্তাহ আগেই সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে থাকত। নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, তাঁর মেগা হিট ক্লাসিক ছবি ‘নিন্নে পেল্লাদাতা’ কিংবা ঐতিহাসিক ব্লকবাস্টার ‘আন্নামাইয়া’-র মতো ছবিগুলির ক্ষেত্রে তাঁরা মুক্তির কমবেশি এক মাস আগেই চূড়ান্ত কপি দেখে আশ্বস্ত হতেন। বর্তমান প্রজন্মের নির্মাতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সে যুগে যদি নির্ধারিত সময়ের বহু আগে কাজ শেষ করা সম্ভব হতো, তবে আজ কেন আমরা সেই শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারছি না? সিনেমার সার্বিক মঙ্গল, শিল্পটির সুস্থতা এবং দর্শকের আস্থার কথা মাথায় রেখে আমার মনে হয় আমাদের এই আত্মঘাতী সংস্কৃতি থেকে অবিলম্বে বেরিয়ে আসা উচিত।”