দিল্লির বুকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পশ্চিম বিহার পূর্ব থানা এলাকার পুষ্কর এনক্লেভে পাঞ্জাবি গায়ক গুরু রান্ধাওয়ার মালিকানাধীন ‘২৪ এইচএস ফিটনেস’ জিমে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। অভিযোগ, মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী জিমটিকে লক্ষ্য করে পর পর বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। প্রকাশ্য দিবালোকে এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে যখন জিমে সদস্যরা শরীরচর্চায় ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই সময় মুখ ঢাকা দুই দুষ্কৃতী বাইকে চড়ে সেখানে হাজির হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা জিমের কাঁচ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জিমের ভেতরে উপস্থিত লোকজন প্রাণের ভয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন, যার ফলে সেখানে পদপিষ্ট হওয়ার মতো এক চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে ভাগ্যক্রমে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
গুলি চালানোর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং অপরাধ তদন্তকারী দল ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোলসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ খতিয়ে দেখছে, গায়ক গুরু রান্ধাওয়ার সঙ্গে সলমন খানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কোনো যোগসূত্র এই হামলার পেছনে রয়েছে কি না। অপরাধীরা ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালাল, তা নিয়ে পুলিশ ধন্দে রয়েছে। ডিসিপি আউটার হরেশ্বর স্বামী জানান, “পশ্চিম বিহার পূর্ব থানায় এই ঘটনার খবর পাওয়ার পরই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা জিমের মালিক গুরু রান্ধাওয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি যে, এর আগে কখনও তিনি কোনো তোলাবাজি বা হুমকি সংক্রান্ত ফোন পেয়েছিলেন কি না।”
এদিকে, গায়কের ঘনিষ্ঠ মহলের আশঙ্কা, হয়তো কোনো বড় চক্র গুরু রান্ধাওয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এই হামলা চালিয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে দিল্লি পুলিশ বিশেষ দল গঠন করেছে। জিম এবং তার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকে পাঞ্জাবি সংগীত শিল্প ও বিনোদন জগতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, দ্রুতই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং এলাকায় নিরাপত্তার চাদর আরও কঠোর করা হবে। তবে গায়কের নিরাপত্তার প্রশ্নে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।





