রুপোলি পর্দা ছেড়ে পাইলট ও ডেন্টিস্ট! ‘তারে জমিন পর’-এর সেই শিশুশিল্পীর বর্তমান জীবন দেখে অবাক নেটপাড়া

আমির খানের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘তারে জমিন পর’ (Taare Zameen Par)-এর কথা মনে আছে? লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটির শিকার শিশু ঈশান অবস্থি এবং তাঁর পরিবারের গল্প আজও দর্শকদের আবেগপ্রবণ করে তোলে। সিনেমার সেই অসাধারণ গল্পের পাশাপাশি দুই শিশুশিল্পী দর্শিল সাফারি এবং সাচেত ইঞ্জিনিয়ার নজর কেড়েছিলেন দর্শকদের। দর্শিল অভিনয়ের জগতে রয়ে গেলেও, সিনেমার ঈশান অবস্থির স্নেহশীল বড় ভাই ‘ইয়োহান অবস্থি’ অর্থাৎ সাচেত ইঞ্জিনিয়ার দীর্ঘ দু’দশক ধরে বিনোদন জগৎ থেকে পুরোপুরি আড়ালে। তবে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া তাঁর সাফল্যের খবর নেটপাড়ায় শোরগোল ফেলেছে। পর্দার সেই টপার ইয়োহান বাস্তব জীবনেও এখন সাফল্যের শিখরে—একজন সফল দন্তচিকিৎসক এবং উঠতি পাইলট!

২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবি সন্তান লালন-পালন ও শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সমাজকে নতুন ভাবনার পথ দেখিয়েছিল। ছবিতে ইয়োহান চরিত্রটি ছিল অত্যন্ত মেধাবী এবং সুশৃঙ্খল। বাস্তব জীবনে সাচেত ইঞ্জিনিয়ার সেই মেধার ছাপ বজায় রেখেছেন। পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন চিকিৎসাবিদ্যার মতো একটি অত্যন্ত সম্মানজনক পেশা। লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, লন্ডনের বিখ্যাত ইউসিএল ইস্টম্যান ডেন্টাল ইনস্টিটিউট থেকে পেরিওডন্টোলজিতে এম.ক্লিন.ডেন্ট ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন তিনি। তিনি ইউরোপিয়ান ফেডারেশন অফ পেরিওডন্টোলজি (EFP)-এর একজন গর্বিত সদস্য। বিদেশে পাড়ি দেওয়ার আগে ডিওয়াই পাটিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেরিওডন্টোলজিতে স্বর্ণপদক জয় করে তিনি নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছিলেন। ওআরই (Overseas Registration Examination) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি এখন আমেরিকায় দন্তচিকিৎসক হিসেবে সফলভাবে প্র্যাকটিস করছেন।

তবে সাচেতের বহুমুখী প্রতিভা এখানেই থেমে থাকেনি। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তিনি এখন আকাশ জয়ের স্বপ্নে বিভোর। লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাইলট হওয়ার লক্ষ্যে তিনি নিয়মিত বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ২০২৪ সালে বিমানের ককপিট থেকে শেয়ার করা তাঁর একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে বিস্মিত হয়েছেন নেটিজেনরা। শিশুশিল্পী থেকে ডেন্টিস্ট এবং পাইলট—তাঁর এই জীবনযাত্রা রূপকথার মতো।

সাচেত এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বিনোদন জগৎ তাঁর লক্ষ্য ছিল না। তাঁর পরিবার সিনেমা জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি অভিনয়কে ক্যারিয়ার হিসেবে ভাবেননি। ‘তারে জমিন পর’-এ সুযোগ পাওয়াটা ছিল নিছক এক কাকতালীয় ঘটনা। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। ছোট ভাইয়ের অডিশনের সময় হাজির থাকা সাচেতকে প্রযোজকরা অডিশন দিতে বলেছিলেন এবং পরের মাসেই তিনি নির্বাচিত হন। বিশাল সাফল্যের পর বহু প্রস্তাব এলেও তিনি সব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “রাস্তায় লোকজন আমাকে চিনত, আমি কেবল হাসতাম।”

বর্তমানে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট রাখলেও মাঝে মাঝে শেয়ার করা ছবি থেকে স্পষ্ট, তিনি নিজের জীবন নিয়ে অত্যন্ত সুখী। যদিও এক সময় তিনি বলেছিলেন পড়াশোনা শেষ করে ইন্ডাস্ট্রিতে ফেরার ইচ্ছের কথা, তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিনোদন জগতে ফেরার কোনো লক্ষণ নেই সাচেতের। তিনি এখন তাঁর নিজের তৈরি করা পেশাদার জগতে আকাশ এবং মাটির মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy