বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন ভারতের দিকে। একদিকে ইউক্রেন-রাশিয়া পরিস্থিতি, অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা তীব্র উত্তেজনা— এই দ্বিমুখী সংকটের মাঝেই ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত হতে চলেছে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মেগা বৈঠক। আগামী ১৪-১৫ মে নয়াদিল্লিতে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে যোগ দিতে ইরান থেকে আসছেন সে দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফরটি কেবল একটি জোটের বৈঠক নয়, বরং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে জমে থাকা বরফ গলানোর এক সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে।
ভারতের মধ্যস্থতা ও জয়শঙ্কর-আরাঘচি ফোনালাপ:
এই সফরের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির মধ্যে এক দীর্ঘ টেলিফোন কথোপকথনের পর। ব্রিকসের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ভারত এখন এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। সম্প্রতি ব্রিকস প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে কোনো ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর, নয়াদিল্লির এই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা তেহরানের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান এখন ব্রিকসকে তাদের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কাটানোর প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।
হরমুজ প্রণালী ও যুদ্ধের মেঘ কাটার ইঙ্গিত:
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় কোনো সমঝোতা হতে পারে বলে খবর মিলছে। বিদেশি গণমাধ্যম সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, আমেরিকা ও ইরান একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্যের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। মাসের পর মাস চলা অবরোধ ও সংঘাতের ইতি টানতে উভয় পক্ষই এখন নমনীয়। প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচলের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলে, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নিতে পারে।
ট্রাম্পের ‘আশাবাদ’ ও আগামী দিনের রূপরেখা:
সবচেয়ে বড় চমকটি এসেছে হোয়াইট হাউস থেকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হওয়ার বিষয়ে প্রবল আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ভারত ব্রিকস সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে মে মাসের এই বৈঠকটি হবে চূড়ান্ত মহড়া। যদি ভারতের মাটিতে ইরান ও আমেরিকার এই দীর্ঘদিনের সংঘাতের কোনো সমাধানসূত্র বের হয়, তবে তা বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্যের মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করবে।





