মাত্র ৩০ মিনিটে বিয়ে! যোগিতা বালির সঙ্গে মিঠুনের রোমহর্ষক প্রেমের গল্প জানলে চোখ কপালে উঠবে!

বলিউডের ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ মিঠুন চক্রবর্তীর জীবনের গল্প যেকোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। সম্প্রতি কোরিওগ্রাফার তথা পরিচালক ফারাহ খানের ভ্লগে নিজের জীবনের বহু অজানা ও চাঞ্চল্যকর অধ্যায় প্রকাশ্যে এনেছেন মহাগুরু। ছোটবেলায় ফুটপাতে রাত কাটানো, বিনা পারিশ্রমিকে নাচ করা থেকে শুরু করে যোগিতা বালির সঙ্গে তাঁর অবিশ্বাস্য প্রেমের গল্প এবং মাত্র আধ ঘণ্টায় সম্পন্ন হওয়া নাটকীয় বিয়ের অজানা কাহিনী শোনান অভিনেতা।
ফারাহ খানের সঙ্গে আড্ডায় মিঠুনের অতীত সংগ্রামের স্মৃতি রোমন্থন করে উঠে আসে তাঁর জীবনের চরম কষ্টের দিনগুলোর কথা। খাবার জোগাড়ের জন্য কাকা কে কে শুক্লার পার্টিতে বিনা পারিশ্রমিকেও নাচতেন তিনি। তবে সেই কঠিন সময় পেরিয়েই নিজের ভাগ্য বদলান মিঠুন। আর সেই সাফল্যের পথেই তাঁর জীবনে আসেন অভিনেত্রী যোগিতা বালি, যাঁকে ভালোবেসে ‘পিঙ্কি’ বলে ডাকেন অভিনেতা।
তাঁদের প্রথম পরিচয়ের গল্পটিও বেশ মজার। মুম্বইয়ের পালি হিল এলাকার একটি খাবারের দোকানের কাছে দুই প্রতিবন্ধী ছেলের সঙ্গে ফুটবল খেলতেন মিঠুন। শুটিং শেষ করে ফেরার পথে সুঠাম দেহের সেই তরুণকে দেখতেন যোগিতা। তবে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়া তো দূরের কথা, মিঠুনকে দেখে রীতিমতো ভয় পেয়েছিলেন যোগিতা। গুন্ডার মতো চেহারার এক যুবক তাঁকে একদৃষ্টে দেখছে ভেবে তিনি তাঁর ভাইকে বিষয়টি জানান। এমনকি যোগিতাই তাঁর ভাইকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ভুলেও যেন মিঠুনের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানো না হয়, মার খেলে শরীরের হাড়গোড়ও খুঁজে পাওয়া যাবে না!
পরবর্তীতে একসঙ্গে প্রায় ১৯-২০টি ছবিতে কাজ করতে করতে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছবির সেটেই শুরু হয় ফ্লাৰ্টিং এবং তা গড়ায় প্রেমে। এরই মধ্যে ‘সুরক্ষা’ ছবির তুমুল সাফল্যের পর মিঠুন সোজা যোগিতার বাড়িতে গিয়ে উল্লাসে জানান যে তিনি এবার ‘স্টার’ হয়ে গিয়েছেন। ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়ে যোগিতাদের বাড়ির জানলা পর্যন্ত ভেঙে গিয়েছিল।
কিন্তু এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান যোগিতার মা, যিনি এই বিয়েতে একেবারেই রাজি ছিলেন না। পরিবারকে রাজি করানোর সময় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত এক অভিনব ও নাটকীয় সিদ্ধান্ত নেন মিঠুন। একদিন যোগিতাকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন পরদিন সকাল ৯টায় তাঁর বাড়িতে হাজির হতে। যোগিতা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে মিঠুন বিয়ের সমস্ত আয়োজন পাকা করে রেখেছেন।
নির্ধারিত সময়ে যোগিতা এসে দেখেন, ঘরের ভেতর পুরোহিত সহ বিয়ের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন। মিঠুন ঘড়ি ধরে সাফ জানিয়ে দেন, বিয়ে সারতে হবে ঠিক মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে—এক মিনিটও বেশি নয়। টাকা দিয়ে পুরোহিতকেও তিনি হুঁশিয়ার করে দেন। এরপর আর কোনো কথা না বাড়িয়ে এক, দুই, তিন করে সাত পাক ঘোরানো হয় এবং যোগিতার কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেন মিঠুন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই যোগিতাকে সোজা বাড়ি গিয়ে মাকে জানিয়ে দিতে বলেন যে তিনি এখন বিবাহিতা।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৭৬ সালে গায়ক কিশোর কুমারের সঙ্গে যোগিতার বিয়ে হলেও ১৯৭৮ সালে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর ১৯৭৯ সালে মিঠুনের সঙ্গে তাঁর জীবন নতুন মোড় নেয়। বর্তমানে তিন ছেলে মিমোহ, উশমে, নামাশি এবং দত্তক কন্যা দিশানিকে নিয়ে তাঁদের ভরা সংসার। যোগিতা অভিনয় জগৎ থেকে দূরে সরে গিয়ে সংসার সামলান। ফারাহ খানের ভ্লগের এই খোলামেলা আড্ডা ফের প্রমাণ করল, মিঠুন চক্রবর্তীর রিয়েল লাইফ ড্রামা রূপোলি পর্দার ছবিকেও ছাপিয়ে যায়।