প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার আর্জি! সুপ্রিম কোর্টের নজরে চাঞ্চল্যকর মামলা!

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ধারায় মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়ে দায়ের হওয়া আবেদন এবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুনবে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ জানিয়েছে যে, আগামী সপ্তাহেই এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সাংবিধানিক কোনো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এহেন আইনি পদক্ষেপের খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোটা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

এদিন মামলাকারী আইনজীবী চাঁদ কুরেশির পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলাটির দ্রুত শুনানির জন্য বিশেষ উল্লেখ করেন। আদালতে তিনি জোরালো সওয়াল করে জানান, বিধিবদ্ধ নিয়ম এবং সাংবিধানিক প্রোটোকল অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের যে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত সব সদস্যের সম্মতিতে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গৃহীত হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যেভাবে কাজ চলছে, তাতে কমিশনের সিদ্ধান্তগুলি আদৌ সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট যৌক্তিক সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত গত ২৩ সেপ্টেম্বর একটি বিশিষ্ট জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিস্ফোরক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে। ওই প্রতিবেদনে প্রকাশ্যে আসে যে, গত ১০ মাস ধরে (২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের অগস্ট পর্যন্ত) অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার ড. সুখবীর সিং সান্ধু এবং ড. বিবেক জোশী বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) পদ্ধতি চালুর ক্ষেত্রে অন্তত ১৪ বার তীব্র লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। কমিশনের নাম ব্যবহার করে একতরফা, অননুমোদিত এবং সম্পূর্ণ বেআইনি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে তাঁরা একাধিকবার প্রতিবাদ জানান। এমনকী পুরো প্রক্রিয়ার বেআইনি দিকগুলি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে তাঁরা দেশের ক্যাবিনেট সচিবের শরণাপন্নও হয়েছিলেন। যদিও সেই সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছিল যে, সংস্থার অন্দরে কোনো অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নেই এবং সমস্ত সিদ্ধান্ত ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে ওঠে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবিরের মতো বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরা একযোগে আক্রমণ শানায় এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে অপসারণের জন্য সংসদের দুই কক্ষে প্রস্তাব পেশ করার হুঁশিয়ারি দেয়। এই বহুমুখী চাপের মাঝেই গত ২৬ সেপ্টেম্বর কমিশন আরেকটি নতুন বিবৃতি জারি করে স্পষ্ট জানায় যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের নাম পুনর্বদ্ধ করার জন্য বুথ স্তরের আধিকারিকরা বা বিএলও-রা (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন। একদিকে রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং অন্যদিকে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ফৌজদারি মামলার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে দেশজুড়ে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।