বিনা নোটিশে বৃষ্টি কেন? সরাসরি ‘ভগবান ইন্দ্র’ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ ঠুকলেন যুবক!

উত্তরপ্রদেশের হারদোই জেলায় গত কয়েকদিন ধরে চলা অবিরাম ও ভারী বর্ষণে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, ঠিক সেই পরিস্থিতিতে এক স্থানীয় যুবকের কাণ্ডকারখানা শুনে তাজ্জব বনে গেছেন খোদ সরকারি আধিকারিকরাও। বিনা নোটিশে অবিরাম বৃষ্টি নামানোর অপরাধে সরাসরি ‘ভগবান ইন্দ্র’ এবং জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনলাইন পোর্টালে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই যুবক। তাঁর এই অদ্ভুত ও বিদ্রূপাত্মক প্রতিবাদের জেরে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল শোরগোল পড়ে গেছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশ সরকারের সরকারি গণঅভিযোগ পোর্টাল ‘জনশুনওয়াই সমাধান পোর্টাল’-এ এই অদ্ভুত অভিযোগটি জমা দেন সুরজ তিওয়ারি নামের এক বাসিন্দা। মূলত নাগরিকদের যেকোনো সমস্যা সরাসরি প্রশাসনের নজরে আনার জন্যই এই পোর্টাল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেই পোর্টালকেই হাতিয়ার করে সুরজ যে কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা সত্যিই অভাবনীয়। অভিযোগপত্রে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে লিখেছেন, “কখনও ভারী আবার কখনও ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের জীবন পুরোপুরি থমকে গেছে। কোনো রকম পূর্বঘোষণা বা নোটিশ ছাড়াই ইন্দ্রদেব লাগাতার বৃষ্টি ঘটিয়ে চলেছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষকে অহেতুক চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।”

টানা বৃষ্টির জেরে জেলার রাস্তাঘাট এবং নিচু এলাকাগুলো জলের নিচে তলিয়ে গেছে। একইসঙ্গে খেতের ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষকদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে এই দুর্যোগ। বৃষ্টি ও জল জমার কারণে সাধারণ মানুষ ঘর থেকেই বের হতে পারছেন না এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন ওই যুবক। তবে এই পুরো অভিযোগের সবচেয়ে চমকপ্রদ ও হাস্যকর অংশটি রয়েছে একেবারে শেষের দিকে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশ্যে করা শেষ আর্জিতে সুরজ রসিকতা করে লেখেন, “আমার কাছে ইন্দ্রদেবের কোনো মোবাইল নম্বর নেই। তাই আমি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেন। প্রয়োজনে তাঁর নিজস্ব ‘দিব্য যোগাযোগ মাধ্যম’ ব্যবহার করে ইন্দ্রদেবকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিন, যাতে অবিলম্বে এই বৃষ্টি বন্ধ করা যায় এবং জেলার মানুষ এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে পারে।”

প্রশাসনের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক অভিনব ও বিদ্রূপাত্মক প্রতিবাদ হিসেবে যুবকের এই অভিযোগপত্রটি মুহূর্তেই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও মজার ছলে করা হলেও এর পেছনে রয়েছে এক মর্মান্তিক বাস্তব চিত্র। হারদোই সহ উত্তরপ্রদেশের একাধিক অঞ্চলে এই অতিরিক্ত বৃষ্টি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির কারণ হয়েছে। গত ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শুধু হারদোই জেলাতেই অতিরিক্ত বৃষ্টি, বজ্রপাত, সাপের কামড় এবং অন্যান্য বৃষ্টিজনিত ঘটনায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সাত জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ৩০টি গবাদি পশুর মৃত্যু ও প্রায় ৩৩০টি কাঁচা-পাকা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর মিলেছে। দুর্গতদের উদ্ধারে এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। তবে উত্তরপ্রদেশের এই প্রাকৃতিক তাণ্ডবের মাঝেও যুবকের এই অভিনব নালিশের ঘটনাটি এক অদ্ভুত আলোচনার জন্ম দিয়েছে।