ঘাটালে ফের জলের তলাতেই তলিয়ে গেল জনজীবন! নদী ছাপিয়ে বানে ভাসছে বিস্তীর্ণ এলাকা, নৌকা ছাড়া গতি নেই!

টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং বিভিন্ন নদী থেকে দফায় দফায় জল ছাড়ার জেরে ফের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমায়। জলের তলায় চলে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা, যার ফলে পুরোপুরি ব্যাহত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। রাস্তাঘাট জলের নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা একপ্রকার ভেঙে পড়েছে। বহু এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন একমাত্র নৌকা। প্রশাসনের তরফ থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে, তবে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কাটছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে চলা অবিরাম বৃষ্টির সঙ্গে ওপরের নদীগুলির লকগেট খুলে জল ছাড়ার ফলে শিলাবতী ও রূপনারায়ন নদীর জলস্তর হু হু করে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে। এর জেরে ঘাটাল পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডসহ একাধিক গ্রামীণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি ও প্যান্ডেলের পাশাপাশি অনেক নিচু এলাকায় জল ঢুকে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গবাদি পশুর খাদ্য থেকে শুরু করে পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতেও মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ঘাটালের এই ভয়াবহ জলবন্দি অবস্থার ফলে স্কুল-কলেজ এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম পুরোপুরি থমকে গেছে। রাস্তাঘাট জলের তলায় চলে যাওয়ায় নৌকা বা কলাগাছের ভেলাই এখন একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষার মরশুমে এই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদী কোনো স্থায়ী সমাধান এখনও পর্যন্ত মেলেনি। বহু মানুষ বাধ্য হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু বাঁধ বা ত্রাণশিবিরের দিকে সরে যাচ্ছেন।

এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুরসভাগুলির পক্ষ থেকে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছে। দুর্গতদের মধ্যে শুকনো খাবার, ত্রিপল এবং বিশুদ্ধ পানীয় জল বিতরণের কাজ চলছে। তবে জলের পরিমাণ যেভাবে ক্রমশ বাড়ছে, তাতে উদ্বেগ কাটছে না। নদীগুলির জলস্তর সম্পূর্ণ না কমলে এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘাটালের এই করুণ পরিণতি সাধারণ মানুষের জীবনকে পঙ্গু করে তুলেছে, এবং সবাই এখন শুধু বৃষ্টির থামা ও জল নামার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।