‘মদ খেয়ে স্বামীকে পেটাতে চাই!’ ‘ইন্ডিয়াস গট লেটেন্ট’-এ শিক্ষিকার বিস্ফোরক মন্তব্যে তুলকালাম

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে বিনোদন দুনিয়া, আর সেই বদলের জোয়ারে ভেসে আসা স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো ‘ইন্ডিয়াস গট লেটেন্ট’ এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া শোয়ের তৃতীয় এপিসোড যেন নতুন করে আগুন জ্বালিয়ে দিল নেটপাড়ায়। মঞ্চে উঠে সাক্ষী ঝা নামক এক প্রতিযোগী যে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন, তা শুনে স্তম্ভিত বিচারক থেকে দর্শক—সবাই। পেশায় বিহারের এক স্কুলের শিক্ষিকা সাক্ষী অডিশন দিতে এসে নিজেকে প্রকাশ করলেন ‘পুরুষ বিদ্বেষী’ হিসেবে।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে সাক্ষী দ্বিধাহীনভাবে জানালেন, তিনি কেবল অপরিচিত পুরুষদেরই নয়, নিজের বাবা এবং ভাইকেও ঘৃণা করেন। তাঁর কথায়, “এই প্রজন্ম মেয়ে হয়ে জন্মানোর অর্থই হলো ট্রমা।” পুরুষদের ইগো ভাঙা তাঁর কাছে চরম আনন্দের বিষয়—এহেন অদ্ভুত দাবির পাশাপাশি তিনি তাঁর জীবনের একটি চরম লক্ষ্যও প্রকাশ করেন। সাক্ষী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি মদ খেয়ে আমার স্বামীকে পেটাতে চাই।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই শোয়ে শুরু হয় প্রবল শোরগোল।
শোয়ের বিচারক মণ্ডলীর সদস্য সময রায়না, তন্ময় ভাট, বিশাল দাদলানি এবং রঘু রাম—সকলেই সাক্ষীর এই চিন্তাভাবনাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁকে শূন্য নম্বর দেওয়ার পাশাপাশি বিচারকরা কড়া ভাষায় বিদ্রূপও করেন। সময রায়না প্রশ্ন করেন, কেন তিনি পুরুষদের ওপর এতটা ক্ষুব্ধ? উত্তরে সাক্ষী দাবি করেন, এটি বংশ পরম্পরায় বয়ে আসা ‘ট্রমা’। তবে বিচারকদের মন্তব্যে তিনি একেবারেই দমে যাননি।
পর্বটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে সাক্ষীর এই ভিডিও। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে ‘টক্সিক ফেমিনিজম’ বলে দেগে দিয়েছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, “ইনি আবার শিক্ষিকা! যিনি সমাজের রোল মডেল হওয়ার কথা, তিনি কী শিক্ষা দেবেন ছাত্রদের?” আবার কেউ লিখেছেন, “বাস্তব জ্ঞানহীন ফেক ফেমিনিজমের চূড়ান্ত নমুনা।” অধিকাংশ দর্শকই তাঁর এই মন্তব্যকে অসংবেদনশীল ও নারীবাদের অপব্যাখ্যা বলে সমালোচনা করেছেন। একজন শিক্ষিকা হয়ে এমন প্রকাশ্য মঞ্চে পুরুষ বিদ্বেষী মনোভাব এবং হিংস্রতাকে উসকে দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে এখন তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। বিনোদন দুনিয়ার এই শোটি এর আগেও একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছে, কিন্তু সাক্ষীর এই বিস্ফোরক দাবি সেই বিতর্কের মাত্রাকে যেন অনেক উঁচুতে নিয়ে গেল।