বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা! জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি হতেই ফেরার জনপ্রিয় গায়ক!

জনপ্রিয় গায়ক সৌরিন ভাটের ব্যক্তিগত জীবনে আইনি জটিলতা ও মেঘ ঘনীভূত হতে শুরু করেছে। যৌন হয়রানি, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং লক্ষাধিক টাকা প্রতারণার একটি গুরুতর মামলায় নিম্ন আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ বারবার অমান্য করায় এবার তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে ওড়িশা হাইকোর্ট। বিচারব্যবস্থার নির্দেশকে অবজ্ঞা করার অপরাধে হাইকোর্ট গায়কের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা (NBW) বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সমস্ত আইনি অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা প্রত্যাহার করে নিয়ে নিম্ন আদালতকে গায়কের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল যখন এক তরুণী কটক মহিলা থানায় গায়ক সৌরিন ভাটের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। নির্যাতিতার অভিযোগ ছিল, বিয়ের ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করা হয়েছে এবং তাঁর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপন করেন গায়ক। পরবর্তীতে তিনি গ্রেফতারি এড়াতে ওড়িশা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানালে আদালত শর্তসাপেক্ষে তা মঞ্জুর করেছিল এবং প্রয়োজনে পুলিশের জেরার মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বারবার আইনি সমন পাঠানো সত্ত্বেও গায়ক সৌরিন ভাট থানায় হাজিরা দেননি, ফলে পুলিশ তাঁকে ধরতে ব্যর্থ হয়।
পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় ২০২৩ সালে কটক মহিলা থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল সুদূর পশ্চিমবঙ্গে গায়কের পৈতৃক বাড়িতে হানা দেয় এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে বাড়ির দেওয়ালে জামিন অযোগ্য পরোয়ানার (NBW) নোটিশ সাঁটিয়ে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশি এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গায়ক পুনরায় ওড়িশা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেন। গত ২০ আগস্ট সৌরিনের নিম্ন আদালতে সশরীরে আত্মসমর্পণ করার কথা থাকলেও তিনি আদালতে হাজির হননি। গায়কের এই অসহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব ও আইন অমান্য করার প্রবণতায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। ফলস্বরূপ, তাঁর সমস্ত সুরক্ষা কবচ বাতিল করে নিম্ন আদালতকে আইনি বিধান অনুযায়ী অতিসত্বর কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।