কাঠমিস্ত্রিকে বেধড়ক মারধর ও ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ! কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা তথা অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী!

তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা জনপ্রিয় অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ফের একবার গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের হলো। এক কাঠমিস্ত্রিকে বেধড়ক মারধর, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বেহালা থানার পুলিশ অভিনেতার বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন রাজনৈতিক মহল সরগরম, অন্যদিকে বিনোদন জগতেও তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে কাঠমিস্ত্রি রাজ কাপুর শর্মা দাবি করেছেন যে, গত ২৪ অগাস্ট বিকেলে তিনি বেহালার একটি আবাসনে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর ফ্ল্যাটে তাঁর কাঠের কাজের বকেয়া টাকা চাইতে গিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ওই ফ্ল্যাটে কার্পেন্ট্রির কাজের জন্য তিনি বরাত পেয়েছিলেন এবং পূর্বে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। কাজ প্রায় শেষের পথে থাকায় তিনি বাকি থাকা ৭৯ হাজার টাকা দাবি করেন, কিন্তু তাঁকে বারবার অকারণে বসিয়ে রাখা হয়। এরপর ২৪ অগাস্ট অভিনেতার বাড়ির এক নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে ফোন করে ডেকে পাঠান। রাজ কাপুর শর্মার অভিযোগ, আবাসনে পৌঁছানোর পর তাঁকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে জানানো হয় যে কোনো বকেয়া টাকা দেওয়া হবে না। এরপরই অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী এবং তাঁর সহযোগী টোটন সরদার তাঁকে পর পর চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মারধরের পাশাপাশি টোটন সরদার তাঁর মোবাইল ফোনটিও জোরপূর্বক কেড়ে নেন। এই অতর্কিত হামলায় গুরুতর জখম হন বলে দাবি করে ওই কাঠমিস্ত্রি পরবর্তীতে সোজা বেহালা থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১২৬(২), ১১৫(২), ৩৫১(২), ৫৪ এবং ৩০৩(২) ধারায় মামলা রুজু করেছে। মারধর করে জেসতিতে আঘাত করা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হুমকি প্রদান এবং বলপ্রয়োগ করে বাধা সৃষ্টির মতো গুরুতর অভিযোগগুলির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, এর আগেও নিউ টাউনের একটি বিখ্যাত রেস্তোরাঁয় মারধরের ঘটনায় অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর নাম জড়িয়েছিল এবং সেই সময়ও তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। অতীতের সেই বিতর্ক থিতিয়ে যাওয়ার আগেই বেহালায় কাঠমিস্ত্রিকে মারধরের এই নতুন অভিযোগ তাঁর রাজনৈতিক ও পেশাগত ইমেজকে বড়সড় ধাক্কা দিল। যদিও এই গোটা বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী বা তাঁর শিবিরের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উভয় পক্ষের বক্তব্য ও ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।